কর্মক্ষেত্রে কত দিন পরপর ছুটি কাটানো উচিত, জানাল গবেষণা
কাজের ব্যস্ততা ও মানসিক চাপ থেকে নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য দূরে রাখা জরুরি। তবে দীর্ঘ ছুটির জন্য বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিয়মিত ছোট বিরতি নেওয়াই মানসিক সতেজতা ও কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে বেশি কার্যকর হতে পারে। গবেষণা বলছে, প্রতি দুই মাস পরপর কয়েক দিনের ছুটি নেওয়া এ ক্ষেত্রে উপকারী।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রবন্ধে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বছরের সব ছুটি একবারে বা একনাগাড়ে নেওয়ার চেয়ে ঘন ঘন ৩-৫ দিনের সংক্ষিপ্ত ছুটি নেওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী। কারণ একটানা কাজ করার ফলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। প্রতি দুই মাস পরপর বিরতি নিলে মস্তিষ্ক নিজেকে রিচার্জ করার সুযোগ পায়, যা কাজে ফিরে আসার পর কর্মক্ষমতা ও কাজের গতি বাড়াতে সাহায্য করে।
বর্তমান সময়ে সবাই ভীষণ ব্যস্ত। অতিব্যস্ত ও প্রতিযোগিতামূলক জীবনে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। এই ক্লান্তি দূর করতে আমরা অনেকেই দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে থাকি। বার্ষিক ছুটির আশায় একঘেয়ে কাজ করে চলি। ভাবি, বছর শেষে লম্বা একটা ট্যুর দিলেই হয়তো সব অবসাদ কেটে যাবে। কিন্তু গবেষণা বলছে, ক্লান্তি দূর করে কাজে সতেজতা ফেরাতে দীর্ঘ ছুটির চেয়ে ঘন ঘন বিরতি নেওয়া অনেক বেশি কার্যকর।
এ বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেশাজীবীদের উচিত একবারে সব ছুটি খরচ না করে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিরতি নিয়ে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করা। ছুটির ক্যালেন্ডারটি এমনভাবে সাজানো যেতে পারে, যেন প্রতি দুই মাস অন্তর কয়েক দিনের জন্য কাজ থেকে দূরে থাকা সম্ভব হয়। এতে মানসিক সতেজতা ফিরে আসার পাশাপাশি কাজে মনোযোগও বাড়তে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি দুই মাস অন্তর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ছুটি কাটানো মানসিক সতেজতা, সুস্বাস্থ্য এবং কাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক। অন্যদিকে, দীর্ঘ ছুটি সাময়িকভাবে মানসিক প্রশান্তি দিলেও এর ইতিবাচক প্রভাব খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
কাজে ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সেই ছুটির আমেজ শেষ হয়ে যেতে পারে এবং পুনরায় মানসিক চাপ ফিরে আসতে পারে। এর বিপরীতে, প্রতি দুই মাস পরপর ছোট ছোট বিরতি নিলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। এ অভ্যাস কর্মীদের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং কাজে মনোযোগ বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
তাই মানসিক চাপ ও একঘেয়েমি কমাতে বছরের শেষের দীর্ঘ ছুটির অপেক্ষায় না থেকে নিয়মিত ছোট বিরতির পরিকল্পনা করা যেতে পারে। প্রতি দুই মাস পরপর ৩-৫ দিনের ছুটি নিয়ে কাজ থেকে কিছুটা দূরে থাকা মন ও শরীরকে সতেজ করার পাশাপাশি কাজে ফিরে নতুন উদ্যমে মনোযোগ দিতে সাহায্য করতে পারে।
What's Your Reaction?