শিল্পের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

Sep 21, 2026 - 17:20
Sep 21, 2026 - 17:22
 0  7
শিল্পের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চা শিল্পকে কেবল ঋণনির্ভর খাত হিসেবে না রেখে রাজস্ব, কর ও ভ্যাটের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে নিয়মিত অবদান রাখা একটি কার্যকর শিল্পে রূপান্তর করার কথা জানিয়েছেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশের চা শিল্পের উন্নয়নে গঠিত পরামর্শক কমিটির প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চা শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। কোনো বাগান বন্ধ বা দেউলিয়া হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে শ্রমিক পরিবার ও স্থানীয় সমাজের ওপর। তাই শ্রমিকদের সুরক্ষা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে এ খাতকে টেকসই ও লাভজনক করা জরুরি।
এক সময় বাংলাদেশ চা রপ্তানি করলেও উৎপাদন ব্যাহত হলে দেশ আবার আমদানিনির্ভর হয়ে পড়তে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে চা শিল্পের সংকট কাটিয়ে একে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সভায় চা বাগানের মূল বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে অনাবাদি ও অব্যবহৃত জমিতে নির্দিষ্ট মেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন, কৃষি ও বিকল্প বনায়ন এবং ক্লাস্টার বা নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে আয়ের নতুন উৎস তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
বক্তারা জানান, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চা প্রবেশ এবং নিলামের বাইরে সরাসরি বিক্রির কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন এবং সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব হারাচ্ছে। নিলামে প্রতি কেজি চায়ের দাম ২৯০–৩০০ টাকা হলেও চোরাই চা ২০০–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্যাট ও অগ্রিম আয়কর যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
সভায় আরও বলা হয়, শুধু সরকারি প্রণোদনা, আবর্তন তহবিল বা ঋণের ওপর নির্ভর না করে চা বাগানগুলোর ব্যবস্থাপনা দক্ষতা ও নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাগানভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং ও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
সভায় ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবীর আহামদ, বাংলাদেশীয় চা সংসদের চেয়ারম্যান কামরান টি রহমান, টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহ মাঈনুদ্দিন হাসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

শিল্প ভিশন: বাংলাদেশের শিল্পায়ন, উৎপাদন, বাণিজ্য, রপ্তানি ও শিল্পনীতির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য Industry Intelligence Hub হওয়া; যা নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ভাষার প্রধান জ্ঞানভান্ডার ও রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের শিল্পখাত, উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রপ্তানি-আমদানি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), সরবরাহ শৃঙ্খল এবং শিল্পনীতিকে তথ্য, গবেষণা, ডেটা ও বৈশ্বিক তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে শিল্পোন্নয়ন, প্রতিযোগিতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা যায়।