শীত আসার আগেই ত্বকের যত্নে যে পরিবর্তন জরুরি

Oct 10, 2026 - 13:38
 0  2
শীত আসার আগেই ত্বকের যত্নে যে পরিবর্তন জরুরি

সামনে শীত। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় পরিবর্তন আসবে, যার প্রভাব পড়তে পারে ত্বকেও। কারও ত্বক হয়ে উঠতে পারে রুক্ষ, কারও ঠোঁট ফাটতে পারে, আবার কারও মুখে দেখা দিতে পারে টানটান ভাব, চুলকানি কিংবা খসখসে দাগ। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক আগে থেকেই শুষ্ক বা সংবেদনশীল, তাঁদের সমস্যা বাড়তে পারে এ সময়ে। তবে শীত এলেই ত্বক শুষ্ক হবে, এমন নয়। ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং দৈনন্দিন যত্নে কিছু পরিবর্তন আনলে অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব।

কেন শীতে ত্বক বেশি শুষ্ক হয়

ত্বকের বাইরের স্তর শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বাইরের পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। এই স্তরে থাকা প্রাকৃতিক চর্বিজাতীয় উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক থেকে পানি হারানোর প্রবণতা বাড়তে পারে। ঘরের ভেতরে শুষ্ক বাতাস, অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল এবং বারবার কঠোর সাবান ব্যবহারের কারণেও ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বলছে, শুষ্ক ত্বকের যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল এবং মৃদু পরিষ্কারক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারলে শুষ্কতা, চুলকানি ও ফাটার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

শীতের আগেই বদলান ত্বকের যত্নের রুটিন

শীত শুরু হওয়ার পর ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে যত্ন নেওয়ার চেয়ে আগেভাগে অভ্যাস বদলানো বেশি কার্যকর হতে পারে। গরমের সময় যে হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়েছে, শীতে সেটি যথেষ্ট নাও হতে পারে। তবে সবার জন্য একই ধরনের পণ্য প্রয়োজন নেই। ত্বক কতটা শুষ্ক, সংবেদনশীলতা আছে কি না এবং কোথায় শুষ্কতা বেশি হচ্ছে, তা বিবেচনা করে পণ্য বেছে নিতে হবে।

শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে পাতলা লোশনের পরিবর্তে ঘন ক্রিম বা মলমজাতীয় ময়েশ্চারাইজার বেশি কার্যকর হতে পারে। গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিরামাইড, পেট্রোলাটাম ও শিয়া বাটারের মতো উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। গোসল বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো ভালো। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

তবে ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ হলে ভারী প্রসাধনী ব্যবহারে কারও কারও রোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণের সমস্যা বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে হালকা, ত্বকের উপযোগী এবং রোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কম—এমন পণ্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।

গোসল ও মুখ ধোয়ার অভ্যাসেও নজর দিন

শীতের সকালে বা রাতে দীর্ঘক্ষণ গরম পানিতে গোসল করতে স্বস্তি লাগলেও তা ত্বকের শুষ্কতা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। তাই কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় গোসল করা ভালো। গোসল শেষে তোয়ালে দিয়ে ত্বক জোরে ঘষে শুকানোর বদলে আলতোভাবে চেপে পানি মুছে নিতে হবে।

মুখ পরিষ্কারের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা জরুরি। অতিরিক্ত ফেনা তৈরি করে এমন কঠোর সাবান, সুগন্ধিযুক্ত পরিষ্কারক কিংবা বারবার মুখ ধোয়ার অভ্যাস ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। ত্বক পরিষ্কারের পর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। হাত বারবার ধোয়ার কারণে শুষ্কতা দেখা দিলে প্রতিবার হাত ধোয়ার পরও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ঠোঁট, হাত ও পায়ের যত্নে অবহেলা নয়

শীতের সময়ে ঠোঁটের চামড়া ফেটে যাওয়া, হাতের আঙুলের গাঁটে শুষ্কতা এবং গোড়ালিতে ফাটল দেখা দেওয়ার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে পেট্রোলাটামযুক্ত লিপ বাম ব্যবহার করা যায়। ঠোঁট বারবার জিভ দিয়ে ভেজানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ এতে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

হাত-পায়ের যত্নেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। বাসন ধোয়া বা পরিষ্কারের কাজে দীর্ঘক্ষণ পানি ও পরিষ্কারক ব্যবহারের প্রয়োজন হলে উপযুক্ত দস্তানা পরা যেতে পারে। পায়ের গোড়ালি শুষ্ক হলে রাতে ময়েশ্চারাইজার লাগানো এবং প্রয়োজন হলে আরামদায়ক মোজা পরা উপকারী হতে পারে।

স্ক্রাব ও প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্কতা

ত্বক খসখসে হলে অনেকেই স্ক্রাব করে মৃত কোষ তুলে ফেলতে চান। কিন্তু অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বা ঘন ঘন রাসায়নিক উপাদানযুক্ত এক্সফোলিয়েটর ব্যবহার ত্বকের বাইরের সুরক্ষাস্তরকে আরও দুর্বল করতে পারে। এতে শুষ্কতা, লালচে ভাব ও জ্বালাপোড়া বাড়ার আশঙ্কা থাকে। শীতের শুরুতে একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে রুটিনে পরিবর্তন আনা ভালো।

এ ছাড়া বাইরে রোদ কম মনে হলেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই দিনের বেলায় খোলা ত্বকে উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার, ছায়ায় থাকা এবং প্রয়োজনমতো ত্বক ঢেকে রাখার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

নিয়মিত যত্নের পরও ত্বকের শুষ্কতা না কমলে কিংবা তীব্র চুলকানি, লালচে দাগ, জ্বালাপোড়া বা ফাটার সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ত্বক ফেটে রক্ত পড়া, ব্যথা হওয়া বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলেও অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ, অতিরিক্ত শুষ্কতার পেছনে একজিমা, সোরিয়াসিস বা অন্য কোনো ত্বকের রোগ থাকতে পারে। শুধু ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে সব ধরনের ত্বকের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

শীতের জন্য ত্বকের যত্ন শুরু করতে ঠান্ডা পুরোপুরি নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। গোসলের অভ্যাসে পরিবর্তন, ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং কঠোর প্রসাধনী এড়িয়ে চলার মতো ছোট পদক্ষেপই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ঋতু বদলের সঙ্গে ত্বকের প্রয়োজন বুঝে যত্নের রুটিনে পরিবর্তন আনাই সুস্থ ত্বক ধরে রাখার মূল চাবিকাঠি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।