রান্না করা খাবার কতক্ষণ বাইরে রাখা নিরাপদ
একবার রান্না করে কয়েক বেলার খাবার রেখে দেওয়া অনেক পরিবারের নিয়মিত অভ্যাস। কেউ দুপুরের তরকারি রাতে খান, আবার কেউ আগের দিনের ভাত বা মাংস গরম করে পরিবেশন করেন। কিন্তু রান্না করা খাবার কতক্ষণ ঘরের তাপমাত্রায় রাখা যাবে, ফ্রিজে কীভাবে রাখতে হবে এবং কতদিন পর তা ফেলে দেওয়া উচিত, এসব বিষয়ে ভুল ধারণা থেকে খাবারজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। খাবারের গন্ধ ও স্বাভাবিক চেহারা ঠিক থাকলেও তাতে ক্ষতিকর জীবাণু বেড়ে যেতে পারে।
রান্নার পর কতক্ষণ বাইরে রাখা যাবে
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিদর্শন বিভাগ বলছে, পচনশীল রান্না করা খাবার সাধারণত রান্নার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্রিজে রাখতে হবে। পরিবেশের তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে এই সময়সীমা এক ঘণ্টা। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় রান্না করা খাবার দীর্ঘক্ষণ টেবিলে বা চুলার পাশে রেখে দেওয়া বিশেষভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খাবার ঢেকে রাখলেই তা দীর্ঘসময় নিরাপদ থাকবে না। ঢাকনা ধুলাবালি ও কিছু বাহ্যিক দূষণ থেকে খাবারকে রক্ষা করতে পারে, কিন্তু ঘরের তাপমাত্রায় জীবাণুর বৃদ্ধি পুরোপুরি বন্ধ করে না।
গরম খাবার ফ্রিজে রাখার সঠিক পদ্ধতি
অনেকে মনে করেন, খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা না হওয়া পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যাবে না। কিন্তু বড় হাঁড়িতে গরম খাবার দীর্ঘসময় রেখে দিলে সেটি ধীরে ঠান্ডা হয় এবং জীবাণু বৃদ্ধির অনুকূল তাপমাত্রায় বেশি সময় থাকতে পারে।
খাবার দ্রুত ঠান্ডা করার জন্য বড় পরিমাণ ভাত, তরকারি, স্যুপ বা মাংস ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে অগভীর পাত্রে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হবে। খাবার ঢেকে রাখলে অন্য খাবারের সঙ্গে সংস্পর্শ এবং গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কমে।
ফ্রিজের তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখা ভালো। ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করে রাখলে ঠান্ডা বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হতে পারে। রান্না করা খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের ওপর বা খোলা অবস্থায় রাখা উচিত নয়।
ফ্রিজে রাখা খাবার কতদিন ভালো থাকে
সঠিকভাবে ফ্রিজে রাখা বেশির ভাগ রান্না করা খাবার তিন থেকে চার দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলা উচিত। এর বেশি সময় রাখতে হলে দ্রুত ফ্রিজারে জমিয়ে রাখা যেতে পারে। তবে খাবারের ধরন, রান্নার পদ্ধতি, সংরক্ষণের তাপমাত্রা এবং আগে কতক্ষণ বাইরে ছিল, এসবের ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করে।
খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া, রং বদলে যাওয়া বা ছাঁচ পড়া নষ্ট হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিন্তু এসব লক্ষণ না থাকলেও খাবারে ক্ষতিকর জীবাণু থাকতে পারে। তাই সন্দেহজনক খাবার চেখে দেখে নিরাপত্তা যাচাই করা উচিত নয়।
খাবার পুনরায় গরম করার সময় সতর্কতা
ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের নির্দেশনায় অবশিষ্ট খাবারের ভেতরের তাপমাত্রা ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করলে কিছু অংশ বেশি গরম এবং কিছু অংশ ঠান্ডা থাকতে পারে। তাই খাবার নেড়ে দিয়ে সব অংশ সমানভাবে গরম হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বারবার পুরো পাত্র গরম ও ঠান্ডা করার পরিবর্তে যতটুকু খাবার প্রয়োজন, ততটুকু আলাদা করে গরম করা ভালো। এতে খাবারের মান বজায় রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় তাপমাত্রা পরিবর্তন এড়ানো সহজ হয়।
বিদ্যুৎ চলে গেলে কী করবেন
দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকলে ফ্রিজের দরজা অপ্রয়োজনে খোলা উচিত নয়। এতে ভেতরের ঠান্ডা বেশিক্ষণ ধরে রাখা সম্ভব হয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে খাবার কতক্ষণ নিরাপদ তাপমাত্রার বাইরে ছিল, তা জানা না থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে মাংস, মাছ, ডিম ও দুধজাতীয় খাবার নিয়ে ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
রান্না করা খাবার নিরাপদ রাখতে সময়মতো ফ্রিজে রাখা, ছোট পাত্রে সংরক্ষণ, সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা এবং প্রয়োজনমতো ভালোভাবে গরম করা জরুরি। খাবার নষ্ট হওয়ার লক্ষণ দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিরাপদ সংরক্ষণবিধি মেনে চলাই খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।
What's Your Reaction?