শিশুদের সৃজনশীলতা, নান্দনিক বোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের লক্ষ্যে রাজধানীতে আয়োজন করা হয়েছে শিশুতোষ সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জোনাকিদের আসর ২০২৬’। আজ বাংলাদেশ মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণ ও ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করেছে শিকড় চিলড্রেনস থিয়েটার। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে কিডস টাইম খিলগাঁও।
দুপুর ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পর্বে সাজানো হয়েছে উৎসবের আয়োজন। প্রথম পর্বে থাকছে শিশুদের জন্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘ক্রিয়েটিভ ফেয়ার’। বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ পর্ব। এতে শিশুরা আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, মাটির কাজ, টি-শার্ট পেইন্টিং, ফেস পেইন্টিং ও পুতুল তৈরির মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। খেলাধুলা ও শিল্পচর্চার মধ্য দিয়ে শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব ‘থিয়েটার গালা’। এতে শিশুদের আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি থাকবে ইনভেন্টরস পাপেটের ‘লাইভ পাপেট শো’। সন্ধ্যার এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ নাজমা জেসমিন চৌধুরীর রচনায় এবং জিয়াউল হক সোহাগের নির্দেশনায় শিশুতোষ মঞ্চনাটক ‘ওরা ছিল বাগানে’। নাটকটির কাহিনিতে উঠে এসেছে নগরজীবনে শিশুদের খেলার জায়গা সংকুচিত হয়ে আসা এবং প্রকৃতি থেকে তাদের ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বাস্তবতা। চার দেয়াল ও ডিজিটাল পর্দায় সীমাবদ্ধ জীবন শিশুদের শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ, প্রকৃতির সান্নিধ্য ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শিশুদের জন্য উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং মায়া ও সহমর্মিতার মতো মানবিক গুণাবলি জাগিয়ে তোলার বার্তা দেবে নাটকটি।
উৎসবের আয়োজন প্রসঙ্গে শিকড় চিলড্রেনস থিয়েটারের দলীয়প্রধান জিয়াউল হক সোহাগ বলেন, ‘শিশুদের কেবল ডিজিটাল স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ না রেখে হাতের কাজ, নাটক, পাপেট শো ও চিত্রকলার মধ্য দিয়ে মানবিক ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলাই আমাদের এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। আমরাও আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে শিশুদের উপযোগী উৎসব আয়োজনের চেষ্টা করছি।
বিনোদন
ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।