২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Nov 2, 2026 - 11:12
Nov 2, 2026 - 11:13
 0  0
২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন। সোমবার (২ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিনটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ—ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। শোভাযাত্রা, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে সাজানো হয়েছে দিনব্যাপী কর্মসূচি।

আজ ২ নভেম্বর ২০২৬ উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হলো— ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ- ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।

‎

‎তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই দিন কেবল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর সঙ্গে মিশে আছে প্রথম দিন ক্যাম্পাসে আসার স্মৃতি, নতুন বন্ধু পাওয়ার গল্প, পরীক্ষার আগের দুশ্চিন্তা, ক্লাস শেষে আড্ডা আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। ছোট্ট ক্যাম্পাসের প্রতিটি পরিচিত জায়গার সঙ্গে জমে আছে কতশত মুহূর্ত। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস যেন সেই স্মৃতিগুলোকে আরেকবার ছুঁয়ে দেখার উপলক্ষ।

‎

‎পুরান ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। চারপাশে যানবাহনের শব্দ, মানুষের ব্যস্ততা আর শহরের চেনা কোলাহল। সেই কোলাহলের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ওঠে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের গল্প

‎

‎এখানে কারও প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার অভিজ্ঞতা, কারও নতুন করে নিজেকে আবিষ্কারের দিনগুলো, আবার কারও কাছে জীবনের কঠিন সময় পার করে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। ক্লাসরুম থেকে করিডর, বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে একটু সময় কাটানো—এসব সাধারণ মুহূর্তই একসময় হয়ে ওঠে অসাধারণ স্মৃতি।

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে সেই চেনা জায়গাগুলোই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বন্ধুরা একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ পান, ছবি তোলেন, গল্প করেন। কেউ হয়তো দিনের শেষে বাড়ি ফিরে ছবিগুলো দেখবেন, আবার কেউ বহু বছর পরও মনে রাখবেন আজকের কোনো একটি মুহূর্ত।

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয়জীবন তো শুধু সনদ অর্জনের গল্প নয়। এর মধ্যে থাকে বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, অভিমান, আনন্দ, ব্যর্থতা আর ঘুরে দাঁড়ানোর অসংখ্য অধ্যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস সেই গল্পগুলোরই সম্মিলিত উদ্‌যাপন।

‎

‎আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোঃ ইকরাম হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের কাছে শুধু একটি উৎসবের দিন নয়, এটি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা। এই ক্যাম্পাসে এসে আমরা নতুন বন্ধু পেয়েছি, নতুন স্বপ্ন দেখতে শিখেছি। প্রতিদিনের ক্লাস, পরীক্ষা আর ব্যস্ততার মধ্যে হয়তো সেই অনুভূতিগুলো প্রকাশ করার সুযোগ হয় না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় দিবস এলে মনে হয়, আমরা সবাই একই পরিবারের অংশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাক, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের জায়গা হয়ে উঠুক—এটাই প্রত্যাশা।’

‎

‎একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল তার ভবন কিংবা শ্রেণিকক্ষ দিয়ে পরিচিত হয় না। পরিচিত হয় তার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, অর্জন, চিন্তা ও সংস্কৃতি দিয়ে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও তার ব্যতিক্রম নয়

‎

‎এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে জবি পরিচয়ের একটি অংশ। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা তরুণেরা এখানে একসঙ্গে পড়াশোনা করেন, বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন, নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের চেষ্টা করেন। ভিন্ন জেলা, ভিন্ন পরিবার ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসা মানুষগুলো একসময় হয়ে ওঠেন একই পরিবারের সদস্য—জবিয়ান।

‎

‎প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সেই পরিচয়কে সামনে নিয়ে আসে। দিনটিতে আনন্দের পাশাপাশি থাকে নিজের প্রতিষ্ঠানের অর্জন নিয়ে গর্ব করার সুযোগ, সীমাবদ্ধতা নিয়ে ভাবার অবকাশ এবং আরও ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বপ্ন দেখার প্রেরণা।

‎

‎কারণ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা যেমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি, তেমনি তাদের প্রত্যাশা ও প্রশ্নও বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

‎

‎পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নাবিলা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো এখানে তৈরি হওয়া সম্পর্ক আর স্মৃতিগুলো। ক্যাম্পাসের পরিচিত জায়গা, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, ক্লাসের ফাঁকে ছোট ছোট আড্ডা—সবকিছুই একসময় অনেক মূল্যবান হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস আমাদের সেই মুহূর্তগুলো একসঙ্গে উদ্‌যাপন করার সুযোগ করে দেয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর হয়তো অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ছোট, কিন্তু এই ক্যাম্পাসকে ঘিরে আমাদের স্বপ্ন ও ভালোবাসা অনেক বড়। চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও সুযোগ-সুবিধায় আরও সমৃদ্ধ হোক।’

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে দিবসের উদ্বোধন করা হবে। সকাল পৌনে ১০টায় ক্যাম্পাস থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে রায়সাহেব বাজার ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসার কথা।

‎

‎সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন এবং সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে হবে দোয়া মাহফিল।

‎

‎আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিকেল ৩টা থেকে বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে শুরু হওয়ার কথা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, ও রঙ্গভূমির শিল্পীরা অংশ নেবেন। পরিবেশনায় থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের ব্যান্ডগুলোও।

‎

‎দিনের শেষভাগে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরবাউল জেমসের কনসার্টকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। প্রিয় শিল্পীর গান, বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানো আর উৎসবের আমেজ—সব মিলিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখার অপেক্ষায় থাকবেন শিক্ষার্থীরা।

‎

‎বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সব আয়োজন একসময় শেষ হবে। মঞ্চের আলো নিভবে, গান থামবে, বন্ধুরা ফিরে যাবেন নিজ নিজ গন্তব্যে। আবার শুরু হবে ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট আর প্রতিদিনের ব্যস্ততা।

‎

‎তবু কিছু মুহূর্ত থেকে যাবে। হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে তোলা একটি ছবি, প্রিয় গানের কয়েকটি লাইন, ক্যাম্পাসে কাটানো বিকেল কিংবা বহুদিন পর একসঙ্গে হওয়ার আনন্দ। এসব ছোট ছোট স্মৃতিই একসময় বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হয়ে ওঠে।

‎‎জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তাই শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের বয়স বাড়ার দিন নয়। এটি হাজারো তরুণের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি জায়গাকে নতুন করে অনুভব করার দিন। যে ক্যাম্পাসে তাঁরা স্বপ্ন দেখতে শিখছেন, নিজেদের তৈরি করছেন, সেই ক্যাম্পাসকে ঘিরেই আজকের আনন্দ।

‎

‎পুরান ঢাকার ব্যস্ততার মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর হয়তো সীমিত, কিন্তু তাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও স্মৃতির পরিসর অনেক বড়। আর সেই স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভালোবাসার বন্ধনেই বারবার এক হয়ে ওঠেন জবিয়ানরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

গবেষণা Vision: বাংলা ভাষায় গবেষণা, ডেটা জার্নালিজম, জননীতি বিশ্লেষণ এবং জনবুদ্ধিমত্তা (Public Intelligence)-এর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Media-Based Think Tank হওয়া; যা সরকার, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন অংশীদার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের জন্য একটি শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানভান্ডার ও নীতিগত রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: গবেষণা, ডেটা, জরিপ, নীতি বিশ্লেষণ, প্রমাণভিত্তিক সাংবাদিকতা এবং বহুমাত্রিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য জ্ঞান উৎপাদন করা; যাতে জটিল জাতীয় ও বৈশ্বিক বিষয়গুলোকে গভীরভাবে বোঝা যায় এবং তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা যায়।