লোডশেডিংয়ে তাঁত শিল্পের আয় নেমেছে অর্ধেকে

Sep 20, 2026 - 20:35
Sep 20, 2026 - 20:43
 0  7
লোডশেডিংয়ে তাঁত শিল্পের আয় নেমেছে অর্ধেকে

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে একের পর এক তাঁত বন্ধ হয়ে কমছে উৎপাদন। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের আয়ে। আগে যেখানে সপ্তাহে ৫–৬ হাজার টাকা আয় হতো, বিদ্যুৎ সংকটে তা নেমে এসেছে ২–৩ হাজারে। কোথাও আবার সাপ্তাহিক আয় কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ থেকে দেড় হাজার টাকা।

উৎপাদন কমে লোকসানের মুখে পড়ছেন তাঁত মালিকরাও। ফলে বিদ্যুৎ সংকট, সুতা-রঙের বাড়তি দাম ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ত্রিমুখী চাপে সংকটে পড়েছে পাবনা-সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।

বাংলাদেশ হ্যান্ডলুম বোর্ডের স্থানীয় বেসিক সেন্টারগুলোর তথ্যানুযায়ী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা। দুই জেলায় বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এ অঞ্চলে উৎপাদিত শাড়ি ও লুঙ্গি দেশের বিপুল চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও বাজারে উৎপাদিত পণ্যের কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন মালিকেরা।

কখনো কখনো ২০-৪০ শতাংশ লোডশেডিংও থাকে। তবে বর্তমানে এই সমস্যা কম রয়েছে। প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের অসুবিধার বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী সারাদেশে রেশনিং করে লোড ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তও হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে।’

কুষ্টিয়ার বাসিন্দা মো. টুটুল হোসেন। ২০ বছর ধরে তাঁত পেশার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছিতে রমজান আলীর তাঁত কারখানায় কাজ করছেন। তার মতে, তাঁত পেশায় অনেকদিন ধরে নানা সংকট থাকলেও এবারের মতো এত অসুবিধায় পড়েননি তাঁত সংশ্লিষ্টরা।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কারখানায় উৎপাদন কমেছে, যেটির প্রভাব সরাসরি পড়েছে তাদের ওপর। আয় কমে অর্ধেকে নেমেছে। ওই নামমাত্র আয়ে সংসার চালানো দায়, বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে তার।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, এমনিতেই তাঁত ও তাঁতিদের অবস্থা ভালো না। রঙ সুতাসহ বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধি। এদিকে কাপড়ের বাজার কমেছে। এরমধ্যে লোডশেডিংয়ের জ্বালা অসহ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

শিল্প ভিশন: বাংলাদেশের শিল্পায়ন, উৎপাদন, বাণিজ্য, রপ্তানি ও শিল্পনীতির সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য Industry Intelligence Hub হওয়া; যা নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ভাষার প্রধান জ্ঞানভান্ডার ও রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের শিল্পখাত, উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, রপ্তানি-আমদানি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), সরবরাহ শৃঙ্খল এবং শিল্পনীতিকে তথ্য, গবেষণা, ডেটা ও বৈশ্বিক তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে শিল্পোন্নয়ন, প্রতিযোগিতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা যায়।