পর্যটনখাতে যোগ হচ্ছে আরো ১০০ কোটি টাকা’
বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ের ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তৃতির কারণে পর্যটনে বাংলাদেশ একটু অফসাইটে চলে গেছে। এ বিষয়ে বাইরে একটি নেতিবাচক প্রচার রয়েছে।’ তিনি আরো জানান, পর্যটন খাতে চলতি বাজেটে যোগ হবে আরো ১০০ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পর্যটন খাতের ওপর আয়োজিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন রাশেদ খান মেনন। এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম এ আলোচনাসভার আয়োজন করে। আয়োজনের সহযোগিতা করে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশ
পর্যটনমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা ৭ দশমিক শূণ্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিস্তৃতিতে বাংলাদেশ একটু অফসাইটে চলে গেছে। পর্যটন সেক্টরের উন্নয়ন করতে পারলে এটি কোনো সমস্যা হবে না।’
রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, ‘এখন আমাদের অর্থনীতি অনেক বড় হয়েছে। তাই বাজেটের আকারও বড়। আর এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণকে গুরুত্ব দিতে হবে। তা ছাড়া ১৫ শতাংশ ভ্যাটের বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তাই ভ্যাট কমানোর বিষয়ে এই মূহূর্তে আমার কিছু করার নেই।’
আগামী বাজেটে পর্যটন খাতে ১০০ কোটি টাকা যুক্ত হচ্ছে, এমন তথ্য জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের আলোচনায় আমি এই সুখবর দিতে চাই যে- গত অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দকৃত ২৪৮ কোটি টাকার সঙ্গে আরও ১০০ কোটি টাকা যু্ক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।’
আলোচনায় ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহ-সভাপতি রাফিউজ্জামান বলেন, ‘সবার সদিচ্ছা, সহযোগিতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া পর্যটনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও বছরের ছয় মাস পার হতে চলেছে। কিন্তু চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়নি।’
রাফিউজ্জামান আরো বলেন, ‘দেশের পর্যটক আকর্ষণ বাড়াতে ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহ বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বার্ষিক আয়ের ২৫ শতাংশ পরিমাণ অর্থ সুদমুক্ত, সর্বনিম্ন হারে ঋণ, বিশেষ ব্যাংকিং সুবিধা এবং আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়।’
আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে পর্যটকবাহী গাড়ি এবং পর্যটকবাহী নৌযান আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার আহ্বান করা হয়। এ ছাড়া হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, হাইওয়ে রেস্তোরাঁ, দেশীয় খাবারের রেস্তোরাঁর আমদানিকৃত কাঁচামাল, ভারী ও হালকা যন্ত্রপাতি এবং প্রশিক্ষণ সামগ্রী শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্ট অব বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল আসলাম খান বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিমানবন্দর ছাড়া অন্য এলাকার বিমানবন্দরগুলো অবকাঠামো উন্নত নয়। এগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করতে হবে।’
অ্যাটাবের পক্ষ থেকে দেশের বিমান বন্দরগুলোতে ট্যুর অপারেটরদের ডেস্ক বসানোর আহ্বান জানানো হয়। অ্যাটাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, সারা পৃথিবীতে প্রকৃতি নির্ভর টেকসহ ও সামাজিক পর্যটনের ভীষণ চাহিদা রয়েছে। এই চাহিদার কথা মাথায় রেখে আর্থসামাজিক উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য লালনের মাধ্যমে পর্যটন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা, অর্থ বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ, বিদেশি বিশেষজ্ঞ, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসচেতনা বৃদ্ধি ইত্যাদির জন্য ব্যাপক কর্মকান্ড ও অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানান।
What's Your Reaction?