হেয়ার স্পা করলেই কি কমে চুল পড়া?
চুল পড়া শুরু হলেই অনেকে ছুটে যান পার্লারে। হেয়ার স্পা, স্ক্যাল্প ম্যাসাজ কিংবা ‘অ্যান্টি-হেয়ার ফল’ ট্রিটমেন্টে চুল পড়া কমবে—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু চুলের যত্ন আর চুল পড়ার চিকিৎসা কি এক বিষয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলকে সাময়িকভাবে সুন্দর ও মসৃণ দেখালেও সাধারণ হেয়ার স্পা চুল পড়ার মূল কারণ দূর করতে পারে না।
হেয়ার স্পায় কী হয়?
হেয়ার স্পায় সাধারণত শ্যাম্পু, কন্ডিশনিং মাস্ক, স্ক্যাল্প ম্যাসাজ, স্টিম এবং শেষে কন্ডিশনিং বা স্টাইলিং করা হয়। এতে চুল নরম, মসৃণ ও সহজে ম্যানেজ করা যায়।
বিশেষ করে শুষ্ক, ভঙ্গুর বা কেমিক্যাল ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত চুলে কন্ডিশনিংয়ের ফলে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি চুলের গোড়া থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঝরে পড়া বন্ধ করার চিকিৎসা নয়।
স্ক্যাল্প ম্যাসাজে কি চুল গজায়?
স্ক্যাল্প ম্যাসাজ বেশ আরামদায়ক এবং সাময়িকভাবে মাথার ত্বকে স্বস্তি দিতে পারে। তবে চুল গজানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার প্রমাণ এখনও সীমিত। কিছু ছোট গবেষণায় চুলের পুরুত্বে সামান্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, চুল পড়ার চিকিৎসা হিসেবে স্ক্যাল্প ম্যাসাজকে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি বলার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
হেয়ার স্পার কেমিক্যাল কি ক্ষতিকর?
‘কেমিক্যাল-ফ্রি’ হেয়ার স্পা—এ ধরনের দাবি শুনে সতর্ক থাকা ভালো। বিভিন্ন স্পা প্রোডাক্টে সুগন্ধি, প্রিজারভেটিভ, সার্ফ্যাক্ট্যান্ট, সিলিকনসহ নানা উপাদান থাকতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে কিছু উপাদান স্ক্যাল্পে জ্বালা বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
এর সঙ্গে যদি স্ট্রেইটেনিং, রিবন্ডিং, ব্লিচিং বা কালারিংয়ের মতো রাসায়নিক ট্রিটমেন্টও করা হয়, তাহলে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
চুল পড়লে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
চুল হঠাৎ বা দ্রুত পড়তে শুরু করলে, মাথায় টাকের মতো প্যাচ তৈরি হলে, স্ক্যাল্পে লালভাব, চুলকানি বা ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে সিঁথি ক্রমশ চওড়া হয়ে গেলে বা কয়েক মাস ধরে চুল পড়া চলতে থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়।
কারণ বংশগত চুল পড়া, থাইরয়েডের সমস্যা, পুষ্টির ঘাটতি, হরমোনের পরিবর্তন, অসুস্থতা, মানসিক চাপ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ নানা কারণে চুল পড়তে পারে। এসব ক্ষেত্রে শুধু হেয়ার স্পা করলে মূল কারণের চিকিৎসা হবে না।
হেয়ার স্পা চুলকে নরম, মসৃণ ও গোছানো রাখতে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে চুল ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও কিছুটা কমতে পারে। তবে চুল পড়ার মূল কারণ যদি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যা বা নির্দিষ্ট রোগ হয়, তাহলে পার্লারের ট্রিটমেন্টে সমাধান মিলবে না। তাই দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক চুল পড়ার ক্ষেত্রে দামি ট্রিটমেন্ট নেওয়ার আগে কারণটি খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
What's Your Reaction?