পিসিও এস এখন পিএমও এস : কেন বদলালো নাম?
বিশ্বজুড়ে পরিচিত Polycystic Ovary Syndrome (PCOS)-এর নাম পরিবর্তন করে Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome (PMOS) রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নামটি রোগটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য এবং জটিলতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত Polycystic Ovary Syndrome (PCOS) নামটি রোগটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি প্রকাশ করে না বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এ রোগে আক্রান্ত সব নারীর ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকে না। বরং এটি একটি জটিল হরমোনজনিত (Endocrine) ও বিপাকীয় (Metabolic) সমস্যা, যা প্রজননস্বাস্থ্যের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও প্রভাবিত করতে পারে।
এ বিষয়টি বিবেচনায় ৩৭টি দেশের ৫৬টি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ১০০-র বেশি বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে গঠিত আন্তর্জাতিক কনসেনসাস প্যানেল ২০২৬ সালের ১২ মে রোগটির নতুন নাম Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome (PMOS) ঘোষণা করে। সিদ্ধান্তটি চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী The Lancet Diabetes & Endocrinology-এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নামটি রোগটির প্রকৃত বৈশিষ্ট্য আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। PMOS-এর Polyendocrine অংশটি একাধিক হরমোনজনিত সমস্যাকে, Metabolic অংশটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও অন্যান্য বিপাকীয় জটিলতাকে এবং Ovarian Syndrome অংশটি ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতাজনিত সমস্যাকে নির্দেশ করে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ৮–১৩ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি অনিয়মিত মাসিক, ডিম্বস্ফোটনে সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব, অতিরিক্ত লোম গজানো, ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন নাম ব্যবহারের ফলে রোগটি সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা কমবে এবং রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় আরও সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, PMOS নামটি শুধু একটি নতুন পরিচয় নয়; এটি রোগটির প্রকৃত জটিলতা ও চিকিৎসার গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফলে ভবিষ্যতে রোগ নির্ণয়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র
* The Lancet Diabetes & Endocrinology (2026)
* International PCOS Name Change Consensus (2026)
* American Society for Reproductive Medicine (ASRM)
* European Society of Human Reproduction and Embryology (ESHRE)
* Monash University Centre for Health Research and Implementation (MCHRI)
What's Your Reaction?