ভুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে যে ভিটামিনের ঘাটতি
বারবার কোনো কথা ভুলে যাওয়া, প্রয়োজনীয় জিনিসের কথা মনে না থাকা কিংবা পরিচিত কোনো বিষয় মনে করতে সময় লাগা—এমন সমস্যা অনেকেরই হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে স্মৃতিশক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব সময় এর কারণ বয়স নয়। শরীরে কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও স্মৃতি ও চিন্তাশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি।
ভিটামিন বি১২ শরীরের স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরে এ ভিটামিনের ঘাটতি হলে দুর্বলতা, ক্লান্তি, হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা, ভারসাম্যের সমস্যা, বিভ্রান্তি এবং স্মৃতিশক্তির সমস্যার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে ভুলে যাওয়ার একমাত্র কারণ যে বি১২-এর ঘাটতি, তা নয়। বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক কারণেও স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা হতে পারে।
ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হলে কী হয়?
ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। শুরুতে ক্লান্তি বা দুর্বলতার মতো সাধারণ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। পরে হাত-পায়ে ঝিনঝিন, অবসাদ, মনোযোগে সমস্যা, বিভ্রান্তি কিংবা স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
তাই নিয়মিত ভুলে যাওয়া বা স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন চোখে পড়লে নিজের ইচ্ছায় ভিটামিনের ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর মাত্রা পরীক্ষা করা যায়।
কোন খাবারে পাবেন ভিটামিন বি১২?
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার:
দুধ, দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস। প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার রাখা যেতে পারে।
মাছ ও মাংস:
মাছ, গরু বা খাসির মাংস এবং মুরগির মাংসের মতো প্রাণিজ খাবারে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। পরিমিত পরিমাণে এসব খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় বি১২-এর উৎস যোগ হয়।
ডিম:
ডিমও ভিটামিন বি১২-এর একটি উৎস। সকালের নাশতা কিংবা দিনের অন্য কোনো খাবারে পরিমিত পরিমাণে ডিম রাখা যেতে পারে।
সয়া ও সয়া-জাত খাবার:
সয়া দুধ, টোফুসহ কিছু সয়া-জাত খাবারে ভিটামিন বি১২ থাকতে পারে। তবে সব সয়া পণ্যে প্রাকৃতিকভাবে বি১২ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে খাবারে আলাদাভাবে ভিটামিন বি১২ যোগ করা হয়। তাই প্যাকেটজাত সয়া দুধ বা অন্যান্য পণ্য কেনার সময় পুষ্টি-তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
যারা প্রাণিজ খাবার খুব কম খান বা একেবারেই খান না, তাদের খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পাওয়া কঠিন হতে পারে। এছাড়া শরীরে বি১২ শোষণে সমস্যা হলেও এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বারবার ভুলে যাওয়ার পাশাপাশি যদি দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাত-পায়ে ঝিনঝিন, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্য হারানো, বিভ্রান্তি বা মনোযোগের সমস্যাও দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ দীর্ঘদিন ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলে স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভুলে যাওয়ার সমস্যা হলেই যে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করে ঘাটতি শনাক্ত করা যায় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা পূরণ করা সম্ভব। তাই স্মৃতিশক্তির সমস্যা বারবার হলে কারণ খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
What's Your Reaction?