ত্বকের কোলাজেন কমছে? জানুন ৫ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৫ বছর বয়সের পর থেকেই শরীর প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ শতাংশ কোলাজেন হারাতে থাকে। যার ফলে ত্বকে পড়ে ভাজ, পোরস বড় হয়ে যায় এবং ত্বক ঝুলে যায়।তাই সৌন্দর্য ধরে রাখতে কোলাজেনের ভূমিকা অনন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব কোষ কোলাজেন তৈরি করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কার্যক্ষমতা কমে যায়।অতিরিক্ত রোদে থাকা,অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানসিক চাপ, হরমোন জনিত পরিবর্তনের কারণে মেনোপজ কোলাজেন ভাঙনের গতি বাড়িয়ে দেয়। যার প্রভাব ত্বকে স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।
ত্বকের কোলাজেন কমে যাওয়ার লক্ষণ
ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া: কোলাজেন কমে গেলে ত্বকের টানটান ভাব কমতে শুরু করে। ত্বক তখন আগের মতো দৃঢ় বা স্থিতিস্থাপক থাকে না। লোম কূপ বড় দেখায় এবং ত্বক ধীরে ধীরে পাতলা হতে থাকে।
ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া: ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কোলাজেন সাহায্য করে। কোলাজেন কমে গেলে ত্বকের পানি ধরে রাখার ক্ষমতাও কমে যায়। যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন দেখায়। আপনার ত্বক যদি দিনকে দিন নিস্তেজ হতে শুরু করে তাহলে সচেতন হোন। রূপবিশেষজ্ঞ কিংবা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলুন।
বলিরেখা :কোলাজেন কমে যাওয়ার ফলে মুখের পাশাপাশি বিশেষ করে কপালে বলিরেখা স্পষ্ট বোঝা যায়। মুখের সূক্ষ্ম রেখাগুলো সহজে মিলিয়ে যায় না। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানোর রেখাগুলো স্থায়ী বলিরেখায় পরিণত হতে শুরু করে।
মুখের গড়নে পরিবর্তন : ত্বক এ কোলাজেন কমলে চোখের চারপাশে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কপালের পাশ সরু হয়ে যেতে পারে। এছাড়া কোলাজেন কমে যাওয়ার কারণে নখ ভাঙা, চুল দুর্বল হয়ে পড়া, এমনকি জয়েন্টে ব্যথা বা পেশির দুর্বলতাও হতে পারে।
ক্ষত সারতে দেরি হওয়া: শরীরের কোথাও আঘাত পাওয়া বা কেটে গেলে তা না শুকালে সতর্ক হোন। কোলাজেন ক্ষয় হলে ক্ষত সারতে দেরি হয়। আবার জয়েন্টের ব্যথাও বেড়ে যায়। কেননা কোলাজেন হাড় ও অস্থিসন্ধির সংযোগে কাজ করে।
কমে যাওয়া কোলাজেন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব?
বিশেষজ্ঞরা জানান, বয়স বাড়লেও ত্বক নতুন কোলাজেন তৈরি করার ক্ষমতা পুরোপুরি হারায় না। নিয়মিত ভালো মানের রেটিনয়েড ব্যবহার করলে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ে।পাশাপাশি ত্বকের কোষকে শক্তি জোগানোও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সুস্থ কোষই কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। তাই কোলাজেন বাড়াতে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস এর অভ্যাস করতে হবে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, শাকসবজি, ফল, দুগ্ধজাত খাবার ও পূর্ণ শস্য রাখতে হবে। এর পাশাপাশি ভিটামিন সি, নিয়াসিনামাইড, পেপটাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্কিনকেয়ার পণ্য ব্যবহার করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোলাজেন কমে যাওয়া বার্ধক্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা এবং নিয়মিত ত্বকের পরিচর্যার মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই ত্বকের এসব লক্ষণ অবহেলা না করে সময়মতো যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র :ভোগ
What's Your Reaction?