শরৎ মানেই নীল আকাশে সাদা মেঘ, বাতাসে হালকা শীতের আমেজ আর মাঠের ধারে দুলতে থাকা কাশফুল। ব্যস্ত রাজধানীতেও এই ঋতুর ছোঁয়া মেলে। শহরের কংক্রিট পেরিয়ে একটু সময়ের জন্য প্রকৃতির কাছে যেতে চাইলে ঢাকার আশপাশের কাশবন হতে পারে এক বিকেলের সুন্দর গন্তব্য।
রাজধানী ও আশপাশের খোলা মাঠ, নদীর পাড়, চর এবং জলাভূমিতে এখন দেখা মিলছে সাদা কাশফুলের। দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, পূর্বাচল, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, বসিলা-ওয়াশপুর এবং কেরানীগঞ্জের সারিঘাটের মতো জায়গাগুলোয় পাওয়া যেতে পারে শরতের এই পরিচিত দৃশ্য।
দিয়াবাড়িতে কাশফুলের সঙ্গে লেকের হাওয়া :
ঢাকার ভেতর থেকে সহজে কাশফুল দেখতে চাইলে দিয়াবাড়ি হতে পারে সুবিধাজনক একটি গন্তব্য। উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের বিস্তীর্ণ খোলা জায়গায় শরতের সময়ে কাশফুল ফুটে ওঠে।
দিয়াবাড়ি বটতলা থেকে কিছুটা সামনে ৩ নম্বর সেতুর দুই পাশে লেকের পাড়ে নৌকা পাওয়া যায়। ফলে কাশফুল দেখার পর লেকের পানিতে নৌভ্রমণেও কিছুটা সময় কাটানো যায়। আশপাশে খাবারের দোকানও রয়েছে।
আফতাবনগরে শহরের কাছেই কাশবন :
রাজধানীর মধ্যেই থেকে শরতের কাশফুল দেখতে চাইলে আফতাবনগরও হতে পারে বিকেলের গন্তব্য। রামপুরা সেতুর দিক থেকে আফতাবনগরের ভেতরে গেলে বিভিন্ন খোলা জায়গায় কাশফুলের দেখা মেলে।
পূর্বাচল ও ৩০০ ফিটে খোলা আকাশের নিচে:
শহরের কংক্রিটের ভিড় থেকে কিছুটা দূরে যেতে চাইলে পূর্বাচল ও তিনশ ফিট এলাকার খোলা জায়গাগুলো বেছে নেওয়া যায়। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে তিনশ ফিট সড়ক ধরে পূর্বাচলের দিকে এগোলেই বিভিন্ন জায়গায় কাশফুলের দেখা পাওয়া যায়।এ এলাকার বিশেষ আকর্ষণ হলো বিস্তৃত খোলা প্রান্তর ও বড় আকাশ। ফলে কাশফুলের পাশাপাশি শরতের পুরো প্রকৃতিও উপভোগ করা যায়।
আশুলিয়ায় কাশফুলের সঙ্গে পথের ভ্রমণ:
ঢাকার কাছাকাছি একটু দীর্ঘ সময় নিয়ে ঘুরতে চাইলে আশুলিয়ার পথে যাওয়া যেতে পারে। মিরপুর বেড়িবাঁধ হয়ে আশুলিয়ার দিকে যেতে যেতে বিভিন্ন জায়গায় কাশবনের দেখা মিলতে পারে। শহরের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে এগোলে চোখে পড়ে খোলা জায়গা, জলাভূমি ও গ্রামীণ পরিবেশ। তাই একটি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে ফিরে না এসে পথের বিভিন্ন স্থানে থেমে প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটানো যায়।
কখন গেলে কাশফুল বেশি সুন্দর?
শুধু জায়গা ঠিক করলেই হবে না, কাশফুল দেখার জন্য সময় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের শেষভাগ পর্যন্ত ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কাশফুলের দৃশ্য বিশেষভাবে চোখে পড়ে।বিকালের শেষভাগ সাধারণত হাঁটা ও ছবি তোলার জন্য আরামদায়ক। তবে কাশফুল দেখতে গিয়ে ফুল ছেঁড়া কিংবা গাছ মাড়িয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকা উচিত। কাশবন অক্ষত থাকলেই প্রকৃতির এই সৌন্দর্য দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব।
শরতের স্থায়িত্ব বেশি নয়। তাই নীল আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের এই সময়টায় ঢাকার কাছেই একটি বিকেল প্রকৃতির জন্য রাখা যেতে পারে। ব্যস্ত শহর থেকে অল্প সময়ের জন্য দূরে গিয়ে কাশফুলের শুভ্রতা, খোলা আকাশ কিংবা নদীর পাড়ে কাটানো সেই সময় ফিরে আসার পরও অনেকক্ষণ মনে থেকে যেতে পারে।