ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করলো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব।
যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব বুধবার একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা রাজতন্ত্রটির (সৌদি আরব) বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা গড়ে তোলার পথ সুগম করতে পারে।
ইউএস (মার্কিন) জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, যা "১২৩ চুক্তি" নামে পরিচিত। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা/সুরক্ষা চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রশাসন খুব কম বিবরণ প্রকাশ করলেও, এই কাঠামোর অধীনে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির যৌথ পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই চুক্তিটি ৩০ বছর কার্যকর থাকবে এবং এতে কর্মসূচির উন্নয়নে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্ত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাইট বলেন, এই চুক্তিগুলো আমাদের দুই দেশের মার্কিন-সৌদি বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করা, নিজ দেশে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং বিদেশে আমাদের মিত্রদের নিরাপত্তা প্রদান করার যৌথ প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটায়।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘নিশ্চিন্ত থাকুন, এই চুক্তিগুলোতে পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং অপ্রসারণের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখা হয়েছে, যা সরাসরি এখানে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত বিশ্বের সেরা পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তিটির সমর্থনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং এই অঞ্চলটিতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা নাকচ করে দিয়েছেন।
রুবিও বলেন, "বিশ্বের কোনো দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে।"
চুক্তিটি এখন পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পেশ করা হবে, যেখানে এটি আইনপ্রণেতাদের বাধার মুখে পড়তে পারে। আইনপ্রণেতারা উদ্বিগ্ন যে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দিলে তা শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
What's Your Reaction?