রিজওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে বললেন আদালত
পাকিস্তানের তারকা ক্রিকেটার মোহাম্মাদ রিজওয়ানের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন লাহোর হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দিতে তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অনলাইন বাজি ও জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিজওয়ানকে তলব করেছিল এনসিসিআইএ। সংস্থাটির এই তলবকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) লাহোর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।
রিট আবেদনে রিজওয়ানের আইনজীবীরা দাবি করেন, কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের মক্কেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। একই সঙ্গে অনলাইন বাজি বা জুয়া সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার এনসিসিআইএর রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
তবে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে রিজওয়ানের আবেদন খারিজ করে দেন লাহোর হাইকোর্ট। ফলে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদের জবাব দেওয়ার বিষয়টি এখন রিজওয়ানের সামনে রয়েছে। যদিও আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে রিজওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল এনসিসিআইএ। একই তদন্তের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের আরেক ব্যাটসম্যান ইমাম-উল-হককেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। ইমাম অবশ্য এরই মধ্যে সংস্থাটির পাঠানো প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন।
রিট আবেদনে রিজওয়ান আরও অভিযোগ করেন, ইংল্যান্ডে লর্ডস টেস্ট শেষ হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে দলের হোটেলের লবিতে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সরকারি একটি সংস্থার কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কোনো পূর্ব নোটিশ বা অনুমোদিত আদেশ না দেখিয়েই তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেন।
রিজওয়ানের দাবি, তিন ঘণ্টার মধ্যে ফোন পরীক্ষা করে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো সেটি তাকে ফেরত দেওয়া হয়নি।
এনসিসিআইএর তদন্তের এখতিয়ার নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন রিজওয়ান। তার আইনজীবীরা বলেন, ক্রিকেটে দুর্নীতি বা ম্যাচসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ) রয়েছে।
এদিকে ইংল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) আলাদা তদন্ত শুরু করেছে। শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের পর এই তদন্ত শুরু করা হয় বলে জানিয়েছে পিসিবি।
লর্ডস টেস্টের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ও প্রক্রিয়া নিয়েও নির্বাচকদের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছিল পিসিবি। এই ঘটনার পর নির্বাচকদের একজন মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, ইংল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড।
What's Your Reaction?