রাউটার রিস্টার্ট করলেই কমবে যেসব সমস্যা
দিন-রাত একটানা চালু থাকে রাউটার। তাই সময়ের সঙ্গে ওয়াই-ফাই ধীর হয়ে যাওয়া, বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা ভিডিওতে বাফারিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সাধারণ সমস্যা সমাধানে অনেক সময় রাউটার রিস্টার্ট করলেই মিলতে পারে সহজ সমাধান।
রিস্টার্ট করলে কি আসলেই স্পিড বাড়ে
রাউটারকে ছোট একটি কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এতে প্রসেসর, মেমোরি ও সফটওয়্যার থাকে, যা সারাক্ষণ বিভিন্ন ডিভাইসের সংযোগ ও ডেটা আদান-প্রদান পরিচালনা করে।
দীর্ঘ সময় চালু থাকার পর কখনো কখনো মেমোরিতে অস্থায়ী তথ্য জমতে পারে বা কোনো প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে। রাউটার রিস্টার্ট করলে এসব প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়। একই সঙ্গে মডেম, রাউটার ও ইন্টারনেট সেবাদাতার মধ্যে সংযোগও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
কিছু রাউটার রিস্টার্টের পর আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ও চ্যানেলের পরিস্থিতি নতুন করে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত ব্যস্ততা বা হস্তক্ষেপের কারণে তৈরি হওয়া কিছু সমস্যা কমতে পারে।
এর ফলে ওয়াই-ফাই বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, ভিডিও চালানোর সময় বাফারিং কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম গতি পাওয়ার মতো সমস্যার সাময়িক সমাধান হতে পারে। তবে রিস্টার্ট করলে ইন্টারনেট প্যাকেজের মূল গতি বাড়ে না।
সাইবার নিরাপত্তায়ও কিছুটা ভূমিকা আছে
রাউটার রিস্টার্ট করার সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তারও কিছুটা সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও অন্যান্য মার্কিন সংস্থা অতীতে কিছু ম্যালওয়্যার আক্রান্ত রাউটার রিবুট করার পরামর্শ দিয়েছে। রিস্টার্টের মাধ্যমে কিছু ধরনের ম্যালওয়্যারের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং রাউটারের সঙ্গে থাকা অস্বাভাবিক কিছু সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তবে শুধু রাউটার রিস্টার্ট করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ করা, শক্তিশালী ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখাও জরুরি।
কতদিন পর পর রিস্টার্ট করবেন
সাধারণ ব্যবহারে নির্দিষ্ট সময় পরপর রাউটার রিস্টার্ট করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে গেলে, ওয়াই-ফাই বারবার সংযোগ হারালে কিংবা একাধিক ডিভাইস অস্বাভাবিকভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী রিস্টার্ট করে দেখা যেতে পারে।
কিছু আধুনিক রাউটারে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিবুট করার সুবিধাও থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী চাইলে নিয়মিত রিবুটের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
রিবুট ও ফ্যাক্টরি রিসেট এক নয়
রাউটার রিস্টার্ট করার ক্ষেত্রে সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আবার চালু করলেই হয়। এতে রাউটারের আগের কনফিগারেশন সাধারণত ঠিক থাকে।
অন্যদিকে, ফ্যাক্টরি রিসেট সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটি করলে রাউটার প্রস্তুতকারকের প্রাথমিক সেটিংসে ফিরে যায়। ওয়াই-ফাইয়ের নাম, পাসওয়ার্ডসহ বিভিন্ন কনফিগারেশন মুছে যেতে পারে। ফলে পরে আবার নতুন করে রাউটার সেটআপ করতে হয়।
তাই ইন্টারনেট বা ওয়াই-ফাইয়ের সাধারণ সমস্যায় সরাসরি ফ্যাক্টরি রিসেট না করে প্রথমে রাউটার রিস্টার্ট করে দেখা ভালো। অনেক ক্ষেত্রে এতেই সমস্যার সাময়িক সমাধান পাওয়া যায়।
ওয়াই-ফাই ধীর হয়ে গেলে বা বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে রাউটার রিস্টার্ট করে দেখা যেতে পারে। তবে ভালো গতি ও নিরাপত্তার জন্য শুধু রিস্টার্ট নয়, রাউটারের সফটওয়্যার আপডেট ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাও জরুরি।
What's Your Reaction?