দূষিত শহরে ব্যায়ামে সতর্কতা
শরীর সুস্থ রাখতে ভোরের হাঁটা কিংবা বিকেলের দৌড়,অনেকেরই প্রতিদিনের অভ্যাস। কিন্তু সেই হাঁটা বা দৌড় যদি হয় ধোঁয়া, ধুলা আর যানবাহনের কালো ধোঁয়ায় ভরা ব্যস্ত সড়কে, তাহলে সুস্থ থাকার চেষ্টাই কখনো বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ ব্যায়ামের সময় শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বাতাস ফুসফুসে ঢোকে, আর বাতাস দূষিত হলে ক্ষতিকর কণাও শরীরে প্রবেশের সুযোগ বাড়ে।
তবে বায়ুদূষণ আছে বলেই ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোথায়, কখন এবং কীভাবে ব্যায়াম করছেন,সেদিকে একটু নজর দিলেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলুন
ব্যায়ামের জন্য যানজটপূর্ণ প্রধান সড়কের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরিবিলি রাস্তা, পার্ক বা সবুজ এলাকা বেছে নেওয়া ভালো। সম্ভব হলে গাছপালা বেশি থাকা জায়গায় হাঁটা বা দৌড়ানোর অভ্যাস করুন।
প্রধান সড়কের কাছাকাছি না থেকে এক-দুই রাস্তা ভেতরে গেলেও যানবাহনের ধোঁয়ার সরাসরি সংস্পর্শ কিছুটা কমানো যেতে পারে।
যানজটের সময় ব্যায়াম নয়
রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলে দূষণের সংস্পর্শও বাড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে ব্যস্ত সময় এড়িয়ে শরীরচর্চার সময় নির্ধারণ করুন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকা গাড়ির পাশে হাঁটা বা দৌড়ানো এড়িয়ে চলাই ভালো।
তীব্র গরমেও থাকুন সতর্ক
শুধু বায়ুদূষণ নয়, অতিরিক্ত গরম ও রোদের সময়ও বাইরে ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আবহাওয়া ও বায়ুর মান বিবেচনা করে তুলনামূলক আরামদায়ক সময়ে শরীরচর্চা করা ভালো।
বের হওয়ার আগে দেখুন বায়ুর মান
বাইরে ব্যায়াম করার আগে এলাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) দেখে নেওয়া যেতে পারে। বায়ুর মান খুব খারাপ থাকলে সেদিন বাইরে ব্যায়াম না করে ঘরে হাঁটা, স্ট্রেচিং বা অন্যান্য ব্যায়াম করা ভালো বিকল্প হতে পারে।
প্রতিদিন একই জায়গায় নয়
প্রতিদিন একই ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটা বা দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। আশপাশে পার্ক, মাঠ কিংবা কম যানবাহন চলাচল করে এমন জায়গা থাকলে সেটি বেছে নিতে পারেন।
সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রেও ব্যস্ত প্রধান সড়কের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম যানবাহন চলাচল করে এমন রাস্তা ব্যবহার করা যেতে পারে।
শারীরিক সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা
হাঁপানি, হৃদরোগ বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা থাকলে দূষিত বাতাসে ব্যায়াম করার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বায়ুর মান খারাপ থাকলে বাইরে শরীরচর্চার পরিবর্তে ঘরে ব্যায়াম করা নিরাপদ বিকল্প হতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি।
ব্যায়াম বন্ধ নয়, সচেতনতা জরুরি
বায়ুদূষণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও নিয়মিত শরীরচর্চার উপকারও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দূষণের কারণে ব্যায়াম একেবারে বন্ধ না করে সময়, স্থান ও বায়ুর মান বিবেচনা করে ব্যায়ামের অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
দূষিত শহরে সুস্থ থাকার লড়াইয়ে শুধু ব্যায়াম করলেই হবে না, ব্যায়ামের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। বায়ুর মান দেখে সময় নির্ধারণ, ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলা এবং দূষণ বেশি থাকলে ঘরের ভেতরে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
সুস্থ থাকার জন্য ব্যায়াম জরুরি, তবে দূষিত বাতাসে সেই ব্যায়াম যেন নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে,সেদিকেও নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
What's Your Reaction?