দীর্ঘ ৩০ বছর পর জাদুর দুনিয়ায় ফিরেছেন সান্দ্রা

Sep 12, 2026 - 16:15
 0  7
দীর্ঘ ৩০ বছর পর জাদুর দুনিয়ায় ফিরেছেন সান্দ্রা
হলিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী সান্দ্রা বুলক প্রায় তিন দশক পর আবারও ফিরেছেন জাদুর দুনিয়ায় । ১৯৯৮ সালের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি রোমান্স ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক’-এর সিকুয়াল ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’-এ স্যালি ওয়েন্স চরিত্রে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সঙ্গে ফিরেছেন তাঁর পর্দার বোন গিলিয়ান ওয়েন্স চরিত্রে নিকোল কিডম্যান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই প্রত্যাবর্তন শুধু দুই বোনের নতুন একটি সিনেমার গল্প নয়; বরং পুরোনো স্মৃতি আর নতুন সময়ের সঙ্গে পথচলা।
 
১৯৯৮ সালে মুক্তির পর ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক’ প্রথম দিকে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে সিনেমাটি দর্শকের কাছে হয়ে ওঠে কাল্ট ক্ল্যাসিক। দুই বোনের সম্পর্ক, নারীর বন্ধুত্ব, পরিবার, ভালোবাসা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা অভিশাপ–সব মিলিয়ে সিনেমাটির নিজস্ব একটি দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়। সান্দ্রা বুলকের কাছেও সেই যাত্রা ছিল আবেগের।
 
তিনি জানিয়েছেন, সিনেমাটি মুক্তির সময় এর গ্রহণযোগ্যতা দেখে তিনি হতাশ হয়েছিলেন। পরে সামাজিক মাধ্যমের যুগে দর্শকরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সিনেমাটিকে নতুন করে আবিষ্কার করায় সেই অভিজ্ঞতা বদলে যায়। এবারের গল্পে সময় এগিয়েছে প্রায় তিন দশক। স্যালি ও গিলিয়ানও আগের মতো নেই। তারা বয়সে পরিণত হয়েছেন, জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন। কিন্তু ওয়েন্স পরিবারের জাদু আর অভিশাপের গল্প শেষ হয়নি; বরং নতুন প্রজন্মকে ঘিরে সেই গল্প আরও বিস্তৃত হয়েছে। Sandra Bullock Hot Gallery | Photo 2 of 10
 
‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’-এ স্যালির মেয়েদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কাইলি ও অ্যান্টোনিয়া চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোয়ি কিং ও মেইসি উইলিয়ামস। পারিবারিক অভিশাপ নতুন করে সামনে এলে স্যালি ও গিলিয়ানকে আবারও জাদুর জগতে পা রাখতে হয়। এবার তাদের লড়াই শুধু নিজেদের জন্য নয়; পরবর্তী প্রজন্মকে সেই অভিশাপ থেকে রক্ষা করাও তাদের দায়িত্ব।
 
সিকুয়ালের গল্পে তাই বয়সের সঙ্গে বদলে যাওয়া নারীর জীবনও উঠে এসেছে। মা হিসেবে স্যালির দায়িত্ব, সন্তানদের বড় হয়ে ওঠা, একাকিত্ব, ভালোবাসা এবং জীবনের নতুন অধ্যায়–সবকিছুর সঙ্গে মিশেছে জাদুর আবহ। প্রযোজক ডেনিস ডি নোভির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সিনেমায় স্যালি ও গিলিয়ানকে বয়সে বড় হলেও আগের মতোই প্রাণবন্ত, আকর্ষণীয় ও জাদুময় নারী হিসেবে দেখানো হয়েছে। সান্দ্রা বুলকের নিজের জীবনও তাঁকে চরিত্রটির নতুন আবেগ বুঝতে সাহায্য করেছে।
 
‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’-এর আগে ব্যক্তিগত জীবনের নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় হলিউড থেকে কিছুটা দূরে থেকেছেন। এবার শুধু অভিনেত্রী হিসেবে নয়, সিনেমাটির প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। নিকোল কিডম্যানও একইভাবে অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে গল্প ও চরিত্রের ওপর তাদের সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক বেশি।  HD sandra bullock wallpapers | Peakpx
সান্দ্রার কাছে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, আগের তুলনায় এখন হলিউডে শিল্পীরা নিজেদের গল্পের ওপর বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন। যে বিষয়গুলো নিয়ে অতীতে কথা বলা কঠিন ছিল, এখন সেগুলো নিয়েও খোলামেলা আলোচনা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, এখন তারা ‘পর্দার পেছনে কী হচ্ছে’ তা দেখার সুযোগ পেয়েছেন। সেই কারণে ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২’-এর মতো গল্প এখন বলা সম্ভব হচ্ছে।
 
নতুন সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সুসান বিয়ার। চিত্রনাট্যে রয়েছেন আকিভা গোল্ডসম্যান ও জর্জিয়া প্রিচেট। মূল দুই অভিনেত্রীর পাশাপাশি ফিরেছেন স্টকর্ড চ্যানিং ও ডায়ান উইস্ট। নতুনদের মধ্যে রয়েছেন জোয়ি কিং, মেইসি উইলিয়ামস ও লি পেস। তবে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত সান্দ্রা বুলক ও নিকোল কিডম্যানের রসায়ন।
 
প্রায় ৩০ বছর পরও পর্দায় দুই বোনের সেই সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বাস্তব জীবনেও দীর্ঘদিনের বন্ধু এই দুই অভিনেত্রী। তাদের পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়া নতুন সিনেমার আবেগকে আরও গভীর করেছে বলে তারা জানিয়েছেন। একসময় যে সিনেমাকে ঘিরে এত প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক’ আজ দর্শকের নস্টালজিয়ার অংশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।