তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা রক্ষায় বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে থালাপতি সরকার

Jul 13, 2026 - 19:31
 0  13
তামিলনাড়ুর মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বাধীনতা রক্ষায় বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে থালাপতি সরকার

ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু জবাই নিষিদ্ধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন মাদ্রাজ হাইকোর্ট পবিত্র ঈদুল আজহা ও অন্যান্য যেকোনো দিনে আর এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ২০২৬ সালের মে মাসে তামিলনাড়ুর নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করা থালাপতি সরকার। 

সোমবার (১৩ জুলাই) মাদ্রাজ হাইকোর্টের আলোচিত সেই নিষেধাজ্ঞার ওপর রায় দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। গরু জবাইয়ের নিষেধাজ্ঞার ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে রায়ে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই নির্দেশটির ক্ষেত্রে আইনি ‘সংশোধন’ বা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে।

এর আগে, গত ২৭ মে মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ১৯৭৬ সালের আগস্ট মাসের একটি পুরোনো সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমগ্র তামিলনাড়ু রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের সেই আদেশকে সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় সরকার যুক্তি প্রদর্শন করে যে, যখন দেশের বিদ্যমান আইন ও সংবিধিবদ্ধ বিধান নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নির্ধারিত স্থানে একটি বিশেষ ক্যাটাগরির বা শ্রেণির গরু জবাইয়ের স্পষ্ট অনুমতি প্রদান করে, তখন সেই বিধিবদ্ধ আইনের পরিপন্থি কোনো বিচার বিভাগীয় নির্দেশ বা নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না।

মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন ও বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণের ডিভিশন বেঞ্চ দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের স্বার্থে ১৯৭৬ সালের সেই পুরনো আদেশটি জারির কথা উল্লেখ করেছিলেন। রায়ের লেখক বিচারপতি স্বামীনাথন আরও জোর দিয়ে বলেছিলেন, ভারতীয় সংবিধানের ৪৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্য সরকারের দায়িত্ব হলো গরু, বাছুর এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত ও মালবাহী গবাদি পশু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। এমনকি, গণপরিষদের বিতর্কের ইতিহাস টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, গরু একটি অত্যন্ত পূজনীয় প্রাণি ও হিন্দু ধর্মের ভগবান কৃষ্ণের সময় থেকেই এটি তাদের সভ্যতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

ঐতিহ্যগতভাবে মুসলিম সম্প্রদায় পবিত্র ঈদুল আজহার সময় স্থানীয় বিধিবিধান মেনে বিভিন্ন ধর্মীয় সমাবেশ ও ব্যক্তিগত প্রাঙ্গণে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি বা উৎসর্গ করে থাকেন। এর পাশাপাশি তামিলনাড়ুর বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরেও তাদের বার্ষিক উৎসবের সময় ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে পশু বলিদানের প্রথা চালু রয়েছে।

মুসলিম ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে যুক্তি দিয়েছেন যে, কোরবানি বা এই ধরনের ধর্মীয় উৎসর্গকে শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সরকারি কসাইখানায় সীমাবদ্ধ করা সম্পূর্ণ অবাস্তব ও অসম্ভব; কারণ উৎসবের দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ পশুর চাহিদার চাপ সামলানোর মতো পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা বা অবকাঠামো ওই নির্দিষ্ট কসাইখানাগুলোর নেই।

থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলনাড়ু সরকার আদালতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন ও কসাইখানা পরিচালনার অন্যান্য বিদ্যমান নিয়ম-কানুন এরই মধ্যে কোন স্থানে ও কী ধরনের শর্তাধীনে পশু জবাই করা যাবে, তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এসব আইন কোনোভাবেই রাজ্যে পশু জবাইয়ের ওপর কোনো ঢালাও বা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।