কাজল-সুরমা: সৌন্দর্য নাকি ঝুঁকি?

Jul 7, 2026 - 18:18
Jul 9, 2026 - 05:43
 0  12
কাজল-সুরমা: সৌন্দর্য নাকি ঝুঁকি?

চোখে কাজল বা সুরমা ব্যবহার আমাদের সংস্কৃতির দীর্ঘদিনের অংশ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলোর চিকিৎসাগত উপকারিতার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। বরং নিম্নমানের বা সীসাযুক্ত সুরমা চোখ ও শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।     
 চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাজারে পাওয়া প্রসাধনী কাজলের মূল উদ্দেশ্য হলো চোখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি। American Academy of Ophthalmology (AAO) জানিয়েছে, কাজল দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়, চোখ ঠান্ডা রাখে বা চোখের রোগ প্রতিরোধ করে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
অন্যদিকে, World Health Organization (WHO) এবং U.S. Food and Drug Administration (FDA) সতর্ক করেছে, কিছু ঐতিহ্যবাহী সুরমায় সীসা (Lead) ও অন্যান্য ভারী ধাতু থাকতে পারে। দীর্ঘদিন এসব পণ্য ব্যবহার করলে চোখে জ্বালাপোড়া, অ্যালার্জি, সংক্রমণ এবং শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে সীসার মাত্রা বেড়ে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেয়াদোত্তীর্ণ কাজল ব্যবহার, অন্যের কাজল বা সুরমা ভাগাভাগি করা এবং অপরিষ্কার প্রসাধনী ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া কনট্যাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীদের চোখের ভেতরের অংশে কাজল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এতে চোখে অস্বস্তি বা প্রদাহের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, শুধুমাত্র অনুমোদিত ও মানসম্মত প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত। চোখে ব্যথা, লালভাব, অতিরিক্ত পানি পড়া, ঝাপসা দেখা বা অস্বাভাবিক অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চোখের সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশেষজ্ঞরা মানসম্মত ও অনুমোদিত প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি চোখে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তথ্যসূত্র
- World Health Organization (WHO)
- American Academy of Ophthalmology (AAO)
- U.S. Food and Drug Administration (FDA)
- Centers for Disease Control and Prevention (CDC)

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।