‘ফ্যান্টাসি ও ফ্লার্ট স্বাভাবিক-মনের ভাবনা আটকানো যায় না’, দাম্পত্য নিয়ে অকপটে কী বললেন সোহা আলি খান

Sep 24, 2026 - 20:30
Sep 24, 2026 - 20:36
 0  3
‘ফ্যান্টাসি ও ফ্লার্ট স্বাভাবিক-মনের ভাবনা আটকানো যায় না’, দাম্পত্য নিয়ে অকপটে কী বললেন সোহা আলি খান

দীর্ঘদিনের সম্পর্কে থেকেও অন্য কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা কি অস্বাভাবিক? সঙ্গীকে অন্য কেউ পছন্দ করলে সেটি কীভাবে দেখা উচিত? আর মনের মধ্যে তৈরি হওয়া কোনো ভাবনা ও বাস্তবে নেওয়া সিদ্ধান্ত—দুটিকে কি এক করে দেখা যায়?

সম্পর্ক, একগামিতা (Monogamy), আকর্ষণ ও ফ্লার্ট নিয়ে সম্প্রতি এমনই কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হন অভিনেত্রী সোহা আলি খান। এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের মনের ভাবনা বা ফ্যান্টাসিকে সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে সেই অনুভূতির ভিত্তিতে মানুষ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটিই সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০১৫ সালে অভিনেতা কুণাল খেমুর সঙ্গে বিয়ে হয় সোহার। দীর্ঘ দাম্পত্যের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বিশ্বাস, ব্যক্তিগত সীমারেখা এবং সচেতনভাবে সম্পর্ককে ধরে রাখার প্রসঙ্গ।

সঙ্গীকে অন্য কেউ পছন্দ করলে?

সাক্ষাৎকারে সোহার কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁর স্বামী কুণাল খেমুকে অন্য কেউ ফ্লার্ট করলে বা তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলে তিনি বিষয়টি কীভাবে দেখেন।

সোহা বিষয়টিকে বেশ স্বাভাবিকভাবেই দেখেন। তাঁর যুক্তি, আপনি যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে আছেন, তাঁর মধ্যে আকর্ষণীয় কিছু গুণ নিশ্চয়ই আছে। তাই অন্য মানুষেরও তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।

অর্থাৎ, অন্য কেউ কাউকে পছন্দ করলেই যে সম্পর্কের ভিত নড়ে যাবে—এমনটা নয়।

 অনুভূতি আর সিদ্ধান্ত এক নয়

সোহার বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হলো—মনে কোনো আকর্ষণ তৈরি হওয়া এবং সেই আকর্ষণের ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া এক বিষয় নয়।

মানুষের অনুভূতি, কৌতূহল বা ফ্যান্টাসি সবসময় নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। কিন্তু নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সচেতন থাকা সম্ভব।

সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাই শুধু “কী অনুভব করছি” নয়, বরং “সেই অনুভূতি নিয়ে আমি কী করছি”—এই প্রশ্নটিও গুরুত্বপূর্ণ।

মনোগ্যামি কি প্রতিদিনের সিদ্ধান্ত?

সোহা জানান, তিনি দীর্ঘমেয়াদি মনোগ্যামিতে বিশ্বাস করেন। তবে তাঁর মতে, এটি এমন একটি বিষয় নয় যা একবার সিদ্ধান্ত নিলেই সবসময় নিজে থেকেই ঠিক থাকবে।

দীর্ঘ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দু’জন মানুষেরই সচেতনভাবে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, সম্মান ও নির্ধারিত সীমারেখা বজায় রাখা প্রয়োজন।

অর্থাৎ, সম্পর্কের commitment শুধু একটি সামাজিক বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়; প্রতিদিনের আচরণেও তার প্রতিফলন থাকা দরকার।

আকর্ষণ মানেই কি সম্পর্কে সমস্যা?

মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও কারও প্রতি আকর্ষণ অনুভব করা মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। তবে সেই অনুভূতির অর্থ সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

কোনো সম্পর্কে থাকা অবস্থায় অন্য কারও প্রতি সাময়িক আকর্ষণ তৈরি হওয়া মানেই যে নিজের সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা শেষ হয়ে গেছে—এমন সরল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কের boundaries, expectations এবং commitment কীভাবে নির্ধারণ করছেন।

সম্পর্কের আসল পরীক্ষা কোথায়?

ভালোবাসার সম্পর্কে বাইরের মানুষের আকর্ষণ বা মনোযোগ একেবারে এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব নয়। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতে দু’জন কীভাবে একে অপরের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস বজায় রাখছেন, সেটিই সম্পর্কের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সোহার কথার সারকথাও অনেকটা সেখানেই—মনের প্রতিটি অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব।

আর দীর্ঘ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সেই সচেতন সিদ্ধান্তই হয়তো বিশ্বাস ও commitment-কে প্রতিদিন নতুন করে ধরে রাখে।

============

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।