হঠাৎ ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে? হতে পারে হরমোনের সমস্যার সংকেত

Sep 11, 2026 - 17:33
 0  7
হঠাৎ ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে? হতে পারে হরমোনের সমস্যার সংকেত

হঠাৎ ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে? শুধু রোদে পোড়া বা প্রসাধনীর সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাবেন না। ঘাড়, বগল কিংবা শরীরের অন্য অংশের ত্বকের এমন পরিবর্তন কখনো কখনো শরীরের ভেতরের হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। সঙ্গে দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা বা মাসিকের অনিয়ম থাকলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

অ্যাডিসন রোগ

ত্বক অস্বাভাবিকভাবে কালো হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে অ্যাডিসন রোগ বা অ্যাড্রেনাল ইনসাফিসিয়েন্সি। কিডনির ওপর থাকা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসলসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু হরমোন তৈরি হয়। এই গ্রন্থি পর্যাপ্ত কর্টিসল তৈরি করতে না পারলে শরীরে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ রোগে ত্বক ধীরে ধীরে গাঢ় হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে হাতের তালুর ভাঁজ, আঙুলের গাঁট, কনুই ও হাঁটু, পুরোনো ক্ষত বা দাগের জায়গা, ঠোঁট, মুখের ভেতর ও মাড়িতে কালচে ভাব বেশি দেখা যায়।

এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, বমি বা পেটের সমস্যা, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

কর্টিসল কমে গেলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এসিটিএইচ হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর প্রভাবে মেলানিনের উৎপাদন বাড়তে পারে, ফলে ত্বকের রং আরও গাঢ় হয়ে যায়।

ঘাড় কালো হওয়ার পেছনে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স

ঘাড়, বগল, কুঁচকি বা শরীরের ভাঁজের জায়গায় ত্বক কালচে, মোটা ও মখমলের মতো হয়ে গেলে তাকে অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস বলা হয়। এতে সাধারণত পুরো শরীর কালো হয় না; নির্দিষ্ট অংশে এমন পরিবর্তন দেখা যায়।

এর অন্যতম প্রধান কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। শরীরে ইনসুলিন থাকলেও তা ঠিকভাবে কাজ না করলে অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে ত্বকের কোষের বৃদ্ধি ও রঞ্জনে পরিবর্তন আসে।

এটি বেশি দেখা যেতে পারে—

◑অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায়

◑প্রি-ডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসে

◑পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে (PCOS)

◑কিছু অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যায়

বিশেষ করে অল্প বয়সে ঘাড় হঠাৎ কালো হতে শুরু করলে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার না করে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

PCOS-এ কি ঘাড় কালো হয়?

PCOS একটি পরিচিত হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যা। এতে অনেকের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকতে পারে। ফলে ঘাড়, বগল ও শরীরের ভাঁজে অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস দেখা দিতে পারে।

তবে ঘাড় কালো হলেই যে PCOS হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা উচিত।

কুশিং সিনড্রোমেও হতে পারে ত্বকের পরিবর্তন

শরীরে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কর্টিসল থাকলে কুশিং সিনড্রোম হতে পারে। এতে মুখ গোল হয়ে যাওয়া, পেটে চর্বি বাড়া, হাত-পা তুলনামূলক সরু হয়ে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, পেশির দুর্বলতা এবং ত্বকে বেগুনি বা লালচে দাগের মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অতিরিক্ত এসিটিএইচের সঙ্গে সম্পর্কিত কুশিং সিনড্রোমে ত্বকের রংও গাঢ় হতে পারে। আবার চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন স্টেরয়েড-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করলেও শরীরে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।

থাইরয়েডসহ অন্যান্য রোগেও বদলাতে পারে ত্বকের রং

কিছু থাইরয়েড রোগসহ বিভিন্ন হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যায় ত্বকের রং, আর্দ্রতা ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী লিভার বা কিডনি রোগ, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য অসুস্থতার কারণেও ত্বক গাঢ় হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

ত্বক কালচে হওয়ার সঙ্গে নিচের যেকোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

◑অস্বাভাবিক দুর্বলতা

◑দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

◑ক্ষুধামান্দ্য বা বারবার বমি

◑রক্তচাপ কম থাকা বা দাঁড়ালে মাথা ঘোরা

◑ঘাড় বা বগল হঠাৎ বেশি কালো ও মোটা হয়ে যাওয়া

◑অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা ঘন ঘন প্রস্রাব

◑মাসিক অনিয়মিত হওয়া

◑অতিরিক্ত লোম গজানো বা ব্রণ

◑দীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহার

◑মুখের ভেতর বা পুরোনো ক্ষতের জায়গায় ◑অস্বাভাবিক কালচে রং

চিকিৎসা কী?

ত্বক কালচে হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মূল কারণ শনাক্ত করা। শুধু ত্বক ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান নাও হতে পারে।

অ্যাডিসন রোগ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা দেওয়া হয়। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস, PCOS বা অন্য কোনো হরমোনজনিত সমস্যা থাকলে তার কারণভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

ত্বকের রঙের পরিবর্তন সব সময় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়। কখনো এটি শরীরের ভেতরে চলতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যার সংকেতও হতে পারে।

হঠাৎ ত্বক কালচে হলে কারণ না জেনে প্রসাধনী ব্যবহার না করে উপসর্গগুলো খেয়াল করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।