সৌদির আকাশে আবার ক্ষেপণাস্ত্র: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় নতুন সতর্কসংকেত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যেই সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চরের দুই শহর—তায়েফ ও ইয়ানবুকে লক্ষ্য করে ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে ইয়েমেনের হুথিদের বিরুদ্ধে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো intercept করে হামলা ঠেকিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। (The Times of Israel)
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ জানান, হুথিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে ধ্বংস করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাটির সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মক্কাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য বিপদের সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সতর্কবার্তাটি অল্প সময়ের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হলেও, সাম্প্রতিক হামলার ধারাবাহিকতায় এটি সৌদি কর্তৃপক্ষের বাড়তি সতর্কতারই ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে চলতি মাসে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করেও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, সেটিও intercept করা হয়েছে। একই সময়ে তায়েফ, ইয়ানবু ও আরও কয়েকটি এলাকায় হামলার চেষ্টা ঠেকানোর কথাও জানানো হয়। (AFP)
এই ধারাবাহিকতা সৌদি আরবের জন্য কেবল নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়। ইয়ানবু সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর কেন্দ্রগুলোর একটি। ফলে ওই অঞ্চলে হামলার আশঙ্কা বাড়লে তার প্রভাব সামরিক সীমারেখা ছাড়িয়ে জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য ও সমুদ্রপথেও পড়তে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি জ্বালানি অবকাঠামো ও লোহিত সাগরীয় যোগাযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে। (AFP)
মক্কাকে ঘিরে সতর্কতাও পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বাড়িয়েছে। এর আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ হুথিদের বিরুদ্ধে মক্কার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ করেছিল। হুথিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। (AFP)
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, ইয়েমেনের যুদ্ধ আর কেবল ইয়েমেনের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টাপাল্টি হামলা আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ ও জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, প্রতিটি হামলা যদি আকাশ প্রতিরক্ষায় ঠেকানোও যায়, তবু এই ধারাবাহিক হামলা কতদিন পর্যন্ত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি করবে। একটি ক্ষেপণাস্ত্রের বিস্ফোরণ হয়তো একটি শহরের বাইরে থেমে যেতে পারে; কিন্তু তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া সীমান্তের অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
What's Your Reaction?