মাসে ৩৫ রুপি বেতনে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন

Oct 8, 2026 - 14:36
Oct 8, 2026 - 14:39
 0  4
মাসে ৩৫ রুপি বেতনে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন
বলিউড অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকার মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারতের গোয়ায় তিনি মারা যান। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো যোগাযোগ না থাকা এই অভিনেতা নিছক নিজের প্রতিভার জোরে এক সাধারণ জায়গা থেকে উঠে এসেছিলেন।
 
এক সাক্ষাৎকারে পাটেকার বলেছিলেন, স্কুল শেষে তিনি প্রায় আট কিলোমিটার হেঁটে মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টিতে যেতেন, যেখানে তিনি সিনেমার পোস্টার আঁকতেন। সে সময় তিনি মাসে ৩৫ রুপি আয় করতেন এবং দিনে একবার খাবার পেতেন। মৃত্যুর আগে প্রতিটি সিনেমার জন্য তিনি ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। 
 
পাটেকার বলেন, বাবার সম্পত্তি হারানোর পর তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার মারাত্মক পরিবর্তন ঘটেছিল। ক্ষুধা এবং আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার অভিজ্ঞতা বছরের পর বছর ধরে তার সাথে ছিল। সেই প্রথম দিকের সংগ্রাম শেষ হয় হিন্দি ও মারাঠি সিনেমা জুড়ে বিস্তৃত ক্যারিয়ারের মাধ্যমে।  
 
দারিদ্র্য থেকে প্রাচুর্য
নানা পাটেকার জানান, মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি কাজ শুরু করেন। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনি সিনেমার পোস্টার আঁকতেন এবং মাসে ৩৫ রুপি আয় করতেন।
 
১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে তিনি বলিউডে প্রথম ব্রেক পান। বছরের পর বছর ধরে, তিনি ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শ্রদ্ধেয় অভিনেতা হয়ে ওঠেন। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নি সাক্ষী’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘নটসম্রাট’ এবং ‘ওয়েলকাম’-এর মতো ছবিগুলো তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে।
 
ক্যারিয়ারের সঙ্গে সঙ্গে তার আয়ও বেড়েছিল। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, শেষ জীবনে তিনি একটি ছবির জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিতেন। অন্যান্য উপস্থিতি এবং ব্র্যান্ড-সম্পর্কিত কাজের মাধ্যমেও তিনি আয় করতেন। তার ওই সম্পদের হিসাব কেবল সিনেমা থেকে উপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
 
গোয়ায় তার একটি বাড়ি ছিল। পাটেকারের আরেকটি বড় সম্পত্তি ছিল পুনের খাদকওয়াসলার কাছে তার খামারবাড়ি (প্রায় ২৭ একর)। এটি কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত হতো, যেখানে গম এবং ধানের মতো ফসল ফলানো হতো।
 
একইভাবে, অনেক বলিউড তারকার তুলনায় পাটেকারের গাড়ির সংগ্রহও তুলনামূলকভাবে সাধারণ ছিল। তার একটি মাহিন্দ্রা জিপ সিজে৪, একটি মাহিন্দ্রা স্করপিও এবং একটি অডি কিউ-সেভেন গাড়ি ছিল।
 
বিলাসিতা কখনই পাটেকারের পছন্দকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। জানা যায়, তিনি একবার একটি বিলাসবহুল গাড়ির পেছনে দেড় কোটি রুপি খরচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, তিনি বরং ওই অর্থ কৃষকদের সাহায্য করার জন্য ব্যবহার করবেন। 
 
পাটেকারের কাছে, দারিদ্র্য থেকে প্রাচুর্যের এই যাত্রা কখনই কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সংখ্যার বিষয় ছিল না। তার নিজের ভাষায়, প্রারম্ভিক জীবনের কষ্টগুলোই তাকে অর্থ, খাবার এবং সাফল্যকে কীভাবে দেখতে হয় তা শিখিয়েছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।