বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

Oct 8, 2026 - 16:25
Oct 8, 2026 - 16:52
 0  3
বিশ্ববাজারে  জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো

ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী অঞ্চল থেকে সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। 


বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ২৭ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ২৮ ডলার বা ২ দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৬৬ ডলার বা ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৯৪ ডলারে পৌঁছেছে।


এর আগে বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির রেকর্ড মূল্য ও সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঠেকাতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগের প্রভাবেই ওই দরপতন হয়েছিল। মার্চে চালু করা একটি পরিকল্পনার আওতায় কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।


তবে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত অষ্টম মাসে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অক্টোবরে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।


উপসাগরীয় দেশগুলোর উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়লেও গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে উপসাগর থেকে বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হলেও হামলার কারণে পণ্য ও নাবিকদের নিরাপত্তা ব্যয় এবং ঝুঁকি দুটিই বেড়েছে।


সর্বশেষ হামলায় কাতারের উত্তরে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি।


এমএসটি মার্কির জ্বালানি বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজে ইরানি হামলার হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে। সীমিত পণ্য প্রবাহ, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের পক্ষ থেকে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তেলের দামকে ঊর্ধ্বমুখী রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


এদিকে এএনজেডের বিশ্লেষক ড্যানিয়েল হাইন্স এক নোটে জানিয়েছেন, আইইএ যে তেল ছাড়ছে, তা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর সময় সংস্থাটির ঘোষিত ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার পরিকল্পনারই অংশ। কৌশলগত মজুত থেকে অতিরিক্ত তেল উত্তোলন করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।


তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের তথ্যও ভূমিকা রেখেছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ভোক্তা দেশটিতে অপরিশোধিত তেলের মজুত বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি কমেছে। অন্যদিকে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুতও সামান্য কমেছে।


যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ৩২ লাখ ব্যারেল কমে ৪২ কোটি ৪১ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকেরা মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।


এ সময়ে ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুত ৪২ হাজার ব্যারেল কমে ১০ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরের একই সময়ের গড়ের তুলনায় এই মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাণিজ্য ও অর্থনীতি Vision: বাংলা ভাষায় ব্যবসা, অর্থনীতি, আর্থিক বাজার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বিশ্লেষণের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য Business & Economic Intelligence Platform হওয়া; যা নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, গবেষক, করপোরেট নেতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য প্রধান রেফারেন্স ও জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থা, ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে তথ্য, গবেষণা, ডেটা, আন্তর্জাতিক তুলনা এবং বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, দায়িত্বশীল বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা সংস্কৃতি বিকশিত হয়।