বিশ্ব ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবি

Sep 13, 2026 - 13:27
 0  5
বিশ্ব ইজতেমার মাঠে সাদপন্থিদের প্রবেশ নিষিদ্ধসহ ৫ দফা দাবি

গাজীপুরের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের কার্যক্রম ও প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘ওলামা-মাশায়েখ বাংলাদেশ’ আয়োজিত সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

তে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ওলামায়ে-মাশায়েখ, বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসার শীর্ষস্থানীয় আলেম, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা, তাবলিগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন থেকে সরকারের কাছে জানানো পাঁচ দফা দাবি হলো-

১. টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্যে দায়ের করা জিআর মামলাগুলোতে দ্রুত চার্জশিট প্রদান ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। সম্মেলনে বলা হয়, স্পর্শকাতর এসব ঘটনা শুধু দুই পক্ষের সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা না করে নিহত ও আহতদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। মামলাগুলোর কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে একটি মনিটরিং সেলের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণের দাবিও জানানো হয়।

২. ২০২৫ সালের ইজতেমার আগে নেওয়া পূর্ববর্তী সরকারি সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৫ সালের টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমা সর্বশেষ ইজতেমা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিল। এরপর টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের কোনো বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা বহাল রাখতে হবে।

৩. ২০১৮ সালের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে হামলার ঘটনায় বহু আলেম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তাবলিগের সাথি আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হন। ওই ঘটনার বিচার না হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বরের ঘটনা ঘটেছে বলে তারা দাবি করেন।

৪. হত্যাকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের, তারা যে পক্ষেরই হোক, আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘাত ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

৫. দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও মুফতিয়ানে কেরামের পরামর্শের ভিত্তিতে দাওয়াত ও তাবলিগের চলমান সমস্যাগুলোর সঠিক নিরূপণ ও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বিশ্ব ইজতেমা শুরায়ি নিজামের অধীনে আলেমদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা এবং কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রমও ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানানো হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা নাজমুল হোসাইন কাসেমী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, মুফতি কেফায়েত উল্লাহ আজহারী ও মাওলানা লোকমান মাজহারীর পরিচালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন আল্লামা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), জমিয়তের সভাপতি আল্লামা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, হেফাজতের মহাসচিব শায়খ সাজিদুর রহমান, মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিম উদ্দিন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা ইকরাম হুসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা শাব্বির আহমদ রশীদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা খুবাইব বিন তৈয়ব, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা আনোয়ারুল করীম, মাওলানা আবদুল হক হক্কানি, মাওলানা মুশতাক আহমদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মুফতি মুহাম্মদ আলী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা নিজামুদ্দিন, মাওলানা লেহাজ উদ্দিন, মাওলানা নিয়ামাতুল্লাহ আল ফরিদী, মাওলানা কামরুজ্জামান, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মুফতি নুরুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল হামিদ, মাওলানা সাঈদ নূর এবং মাওলানা আবু বকর প্রমুখ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ন্যাশনাল ভিশন: বাংলাদেশের জাতীয় জনজীবন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও জ্ঞানকেন্দ্র হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় ঘটনাপ্রবাহের প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: রাজধানী, মন্ত্রণালয়, সংসদ, আদালত, নির্বাচন, জনসেবা এবং নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি দ্রুত, নির্ভুল, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।