ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ২৪ আগস্ট

Aug 21, 2026 - 17:44
 0  10
ফেনীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার আপিলের রায় ২৪ আগস্ট

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের রায় আগামী ২৪ আগস্ট। 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের দিন ধার্য করেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা। আসামিপক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন খান, মোহাম্মদ শিশির মনির, মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম রিপন, এম ডি রেজাউল করিম, মো. বেলায়েত হোসেন, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, তাহামিনা তানজিম, দেব দুলাল বরালসহ আরো অনেক আইনজীবী।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। ১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়।

সাত বছর আগের চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই থেকে।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, ‘টানা ১৭ দিন এ মামলায় শুনানি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে চূড়ান্ত শুনানি করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।’

পরে এ মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধারে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, ‘ফৌজদারি কার্যব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হয়, তাহলে সেই ব্যক্তিকে সাজা দেওয়া ঠিক না। রাষ্ট্রপক্ষ শুধু সরকার কিংবা একটি পক্ষকে প্রতিনিধিত্ব করে না। যিনি দণ্ডিত ব্যক্তি, যিনি আপিলকারী, তার প্রতিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি আদালতকে বলেছি, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যিনি প্রকৃত দোষী, তিনি যেন শাস্তি পান। আর যদি কোনো ব্যক্তি যদি দোষী না হয়ে থাকেন, তাহলে তিনি যেন নিরপরাধ হিসেবে ঘোষিত হন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মূল ধারার গণমাধ্যমে যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বা তদন্তকারী সংস্থা তথ্য অনুসন্ধানের আগেই নানা রকম ন্যারেটিভ তৈরি হয়। কেউ যেন এরকম মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার না হন। শুধু আলোচিত ঘটনায় এরকম একটা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেন কোনো কারণে কোনো ব্যক্তির বিচার না করা হয়, সেই বিষয়টাও আমি আদালতকে বলেছি।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের মূল কাজ হচ্ছে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমরা আশা করছি, যারা প্রকৃত দায়ী তারা শাস্তির আওতায় আসবেন। যদি কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি দণ্ডিত হয়ে থাকেন ইতিপূর্বে, তাহলে তিনিও প্রতিকার পাবেন, এটা আমাদের বিশ্বাস।’

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে ওই ছাত্রীর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
 
এ মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ডেথ রেফারেন্সের জন্য এ মামলার রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এসে পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। গতকাল চূড়ান্ত শুনানির পর তা রায় ঘোষণার জন্য রাখেন উচ্চ আদালত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।