ডেঙ্গুর সময় শরীরে পানিশূন্যতা ঠেকাতে যা খাবেন
ডেঙ্গু হলে জ্বরের সঙ্গে দুর্বলতা, বমি বমি ভাব বা বমির সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় খাওয়ার ইচ্ছাও কমে যায়। ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ডেঙ্গুর সময় ওষুধ ও বিশ্রামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত তরল খাওয়ার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। পানি, ওআরএস, ডাবের পানি, স্যুপসহ কিছু সহজলভ্য পানীয় শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু কোনো একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে সারা দিনে নিয়মিত তরল গ্রহণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।
বারবার পানি পান করুন
ডেঙ্গুর সময় একসঙ্গে অনেকটা পানি পান করার বদলে অল্প অল্প করে বারবার পানি খেতে পারেন। বিশেষ করে জ্বর বা ঘাম বেশি হলে শরীরে পানির ঘাটতি যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করার অভ্যাস করুন। তবে রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা ও অন্য কোনো রোগ আছে কি না—এসবের ওপর পানীয়ের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।
ওআরএস হতে পারে ভালো বিকল্প
ডেঙ্গুর সময় জ্বর, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তৈরি ওআরএস উপকারী হতে পারে। অল্প অল্প করে বারবার ওআরএস পান করা যায়।
তবে ওআরএস তৈরির সময় প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে সঠিক পরিমাণ পানিতে মেশানো জরুরি।
ডাবের পানি ও হালকা স্যুপ
ডাবের পানি, হালকা স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবারও শরীরে তরল গ্রহণ বাড়ানোর সহজ উপায় হতে পারে। বিশেষ করে যাদের শুধু পানি খেতে ভালো লাগছে না, তারা খাবারের সঙ্গে এসব তরল রাখতে পারেন।
তবে ডাবের পানি বা কোনো বিশেষ পানীয় ডেঙ্গুর চিকিৎসা নয়। এগুলো মূলত শরীরে তরল গ্রহণের অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
ফল ও ফলের পানীয়
তাজা ফলও ডেঙ্গুর সময় খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে। কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরে তরল গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ফলের রস খেলে অতিরিক্ত চিনি না মেশানোই ভালো। বাজারের অতিরিক্ত চিনি দেওয়া কোমল পানীয় বা মিষ্টি পানীয়ের বদলে পানি, ওআরএস বা স্বাভাবিক ফলের পানীয় বেছে নেওয়া ভালো।
বমি হলে কী করবেন?
ডেঙ্গুর সময় বমি হলে একবারে বেশি পানি বা পানীয় খেলে আবার বমি হতে পারে। তাই অল্প অল্প করে বারবার তরল খাওয়ার চেষ্টা করা ভালো। বমি বারবার হলে এবং কোনো তরলই শরীরে রাখতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শুধু পানি খেলেই হবে?
ডেঙ্গুর সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু পানি নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত তরলও নেওয়া যেতে পারে। ওআরএস, স্যুপ, ফলের পানীয়সহ বিভিন্ন তরল খাবারের মাধ্যমে শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করা যায়।
তবে অতিরিক্ত মিষ্টি কোমল পানীয় নিয়মিত পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।
ডেঙ্গুর সময় খাবারের প্লেটে কী রাখবেন?
পানীয়ের পাশাপাশি সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে। যেমন—
◑ভাত ও হালকা ডাল
◑খিচুড়ি
◑স্যুপ
◑সেদ্ধ বা রান্না করা সবজি
◑মাছ বা ডিম
◑তাজা ফল
◑টক দই, যদি সহ্য হয়
একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে কয়েকবার খেতে পারেন। ক্ষুধা কম থাকলেও শরীরকে যতটা সম্ভব পুষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করা জরুরি।
বিশ্রামও জরুরি
ডেঙ্গুর সময় শরীর দুর্বল থাকে। তাই বেশি কাজ বা শরীরচর্চা না করে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। নিয়মিত তরল পান করুন এবং চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলুন। ডেঙ্গুতে নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসায় মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসার ওপর জোর দেওয়া হয়।
জ্বর কমলেই কি বিপদ কেটে যায়?
এখানেই সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকা দরকার। ডেঙ্গুতে জ্বর কমে গেলেই যে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন, এমনটা সবসময় নয়। জ্বর কমার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টায় গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত দেখা দিতে পারে।তাই জ্বর কমার পরও রোগীর অবস্থা নজরে রাখুন।
যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নেবেন
তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, শ্বাসকষ্ট বা খুব বেশি তৃষ্ণা হলে দেরি না করে চিকিৎসা নিতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়াও পানিশূন্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
ডেঙ্গুর সময় শরীরকে পানিশূন্য হতে না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সারাদিন অল্প অল্প করে পানি, প্রয়োজন অনুযায়ী ওআরএস এবং অন্যান্য উপযোগী তরল গ্রহণ করুন। পাশাপাশি সহজপাচ্য খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। তবে ডেঙ্গুর কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া খাবার বা পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
What's Your Reaction?