জাঙ্ক ফুড কমালে কমতে পারে বিষণ্নতার উপসর্গ
মন খারাপ হলেই কি বার্গার, চিপস কিংবা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে ইচ্ছে করে? পছন্দের খাবার খেলে মুহূর্তের জন্য মন ভালোও হয়ে যায়। তবে নিয়মিত জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাস থাকলে একটু সতর্ক হওয়া ভালো। কারণ প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে শুধু শরীরের নয়, মনের ভালো থাকারও সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কমালে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের কিছু উপসর্গ কমতে পারে। তাই মন ভালো রাখার যত্নটা শুরু হতে পারে খাবারের প্লেট থেকেই।
জাঙ্ক ফুড কমাবেন কীভাবে?
হঠাৎ করে সব জাঙ্ক ফুড বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলান। বাইরে থেকে ফাস্ট ফুড অর্ডার করার বদলে সপ্তাহে কয়েক দিন ঘরের তৈরি খাবার বেছে নিতে পারেন।
পছন্দের খাবারের স্বাস্থ্যকর বিকল্প
জাঙ্ক ফুড খেতে ইচ্ছে করলে কিছু সহজ বিকল্প বেছে নিন—
◑চিপসের বদলে ভাজা ছোলা বা বাদাম
◑কোমল পানীয়ের বদলে লেবু-পানি
◑ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের বদলে ঘরে তৈরি বেকড আলু
◑মিষ্টির বদলে তাজা ফল বা টক দই
◑ফাস্ট ফুডের বদলে ঘরে তৈরি স্যান্ডউইচ
খাবারের প্লেটে রাখুন এসব
প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ডাল, মাছ, ডিম, ফল, বাদাম ও গোটা শস্য রাখার চেষ্টা করুন। এতে পুষ্টিকর খাবারের পরিমাণ বাড়বে এবং প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতাও কমবে।
মন ভালো রাখতে শুধু খাবার নয়
খাবারের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসও মন ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।
প্রতিদিন একটু হাঁটুন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শরীরচর্চার অভ্যাস করুন।
ঘুমের সময় ঠিক রাখুন প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ওঠার অভ্যাস করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন সারাদিন নিয়মিত পানি পান করুন।
কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন মন খারাপ থাকলে নিজেকে একা করে না রেখে প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলুন।
নিজের জন্য সময় রাখুন গান শোনা, বই পড়া, হাঁটতে যাওয়া কিংবা পছন্দের কোনো কাজের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় রাখুন।
একেবারে বাদ দিতে হবে?
না। মাঝে মধ্যে পছন্দের খাবার খাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। মূল বিষয় হলো, জাঙ্ক ফুড যেন প্রতিদিনের খাবারের বড় অংশ হয়ে না যায়। পরিমাণ কমিয়ে পুষ্টিকর খাবারের দিকে ঝুঁকলে অভ্যাস বদলানো অনেকটাই সহজ হতে পারে।
শরীর ভালো রাখার পাশাপাশি মন ভালো রাখতেও প্রতিদিনের জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। জাঙ্ক ফুড কমানো, ঘরের খাবার খাওয়া, হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম আর নিজের জন্য একটু সময়। ছোট এই অভ্যাসগুলো দিয়েই শুরু হতে পারে পরিবর্তন। তবে দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ বা বিষণ্নতার মতো উপসর্গ থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
What's Your Reaction?