খুলে দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট
ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান,সকাল থেকেই নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বাড়তে শুরু করে। সর্বশেষ রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার- যা এই পয়েন্টের নির্ধারিত বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় পানির স্তর বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছিল, যা মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে।
উজানের এই তীব্র পানির চাপ সামাল দিতে এবং ব্যারাজের নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) একযোগে পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভারতের পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় ব্যারাজের সবগুলো জলকপাট খুলে রেখে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি উপচে পড়ায় হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, দোয়ানী, সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, সিন্দুর্না ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে
What's Your Reaction?