কোটি টাকা জরিমানাসহ গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

Sep 7, 2026 - 11:55
 0  9
কোটি টাকা জরিমানাসহ গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
গুমকে সুনির্দিষ্ট অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান এবং মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। 
 
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস করা হয়।
 
পাস হওয়া আইনগুলো হলো, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬ এবং সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিল-২০২৬। ২০০৯ সালের আইন রহিত করে পাস হওয়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলের মাধ্যমে স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কাঠামো করা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়ে কমিশন গঠিত হবে।
 
এতে অন্তত একজন নারী এবং একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা সুবিধাবঞ্চিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকার বিধান রাখা হয়েছে। কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতার পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী সনদের আলোকে জাতীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ইউনিট গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
 
বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, এতে দ্বিমুখী নীতি রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, সাধারণ নাগরিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে কমিশন সরাসরি তদন্ত করতে পারবে।
 
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমকে আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপস-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যের মাধ্যমে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর কারও অবস্থান অস্বীকার বা গোপন করাকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।
 
গুমের সাধারণ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে ভুক্তভোগী মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি সময় নিখোঁজ থাকলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানা করা যাবে। ভুক্তভোগীর পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ফান্ড এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধানও রাখা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা বলা হয়েছে।
 
সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধনী) বিলের মাধ্যমে ১৮৮২ সালের আইনে ‘আজীবন ভোগস্বত্ব সংরক্ষিত দান’ ধারণা যুক্ত হয়েছে। এর ফলে মা-বাবা, দাদা-দাদি বা দাতা রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয় কিংবা জীবনসঙ্গীর নামে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও আমৃত্যু তা ভোগের অধিকার রাখতে পারবেন। বিধানটি সব ধর্মের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
 
বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা এর কিছু বিধান কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী দাবি করে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি নাকচ হলে তাঁরা সাময়িক ওয়াক আউট করেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংশোধনীটি সাধারণ দান বা মুসলিম আইনের হেবায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বাংলাদেশ ভিশন: বাংলাদেশ রাষ্ট্র, সরকার, উন্নয়ন, নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় রূপান্তর সম্পর্কে বাংলা ভাষার সর্বাধিক বিশ্বাসযোগ্য, গবেষণানির্ভর এবং প্রভাবশালী জ্ঞানভান্ডার হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতি, শাসনব্যবস্থা, জননীতি, জাতীয় উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প এবং সমসাময়িক জাতীয় ইস্যুসমূহকে তথ্য-যাচাই, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ সাংবাদিকতার মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা শুধু "কি ঘটেছে" নয়, বরং "কেন ঘটেছে", "এর প্রভাব কী" এবং "এর ভবিষ্যৎ তাৎপর্য কী"—তা বুঝতে পারেন।