কেন বাড়ছে নারীর বন্ধ্যাত্ব? জানুন কারণ ও সমাধান

Jul 10, 2026 - 18:27
Jul 13, 2026 - 23:57
 0  12
কেন বাড়ছে নারীর বন্ধ্যাত্ব? জানুন কারণ ও সমাধান

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা( WHO) মতে,বন্ধ্যাত্ব হলো পুরুষ বা নারীর প্রজননতন্ত্রে একটি রোগ, যা ১২ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত অরক্ষিত যৌন মিলনের পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থতার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হয়। নারীর বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে ছয় মাস চেষ্টার পর গর্ভধারণ না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সমস্যার উৎস নারী, এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে পুরুষ এবং বাকি ক্ষেত্রে উভয়ের সমস্যা বা অজানা কারণ দায়ী।

কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে মহিলাদের বন্ধ্যাত্বের কারণগুলোকে মূলত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়:

 ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশনের সমস্যা (Ovulation Disorders):  

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PCOS) এটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার একটি সাধারণ কারণ, যা অনিয়মিত মাসিক এবং ডিম্বস্ফোটনে বাধা তৈরি করে। 

প্রিম্যাতুওর ওভারিয়ান ফেইলিওর (POF): ৪০ বছর বয়সের আগেই ডিম্বাশয় স্বাভাবিক কাজ করা বন্ধ করে দিলে সন্তান ধারণে সমস্যা হয়। 

ফ্যালোপিয়ান টিউবের সমস্যা (Tubal Factors):

ফ্যালোপিয়ান টিউব বন্ধ বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হতে পারে না বা নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছাতে পারে না। পেলভিক ইনফ্লেমেটরি ডিজিজ (PID), যৌনবাহিত রোগ (যেমন- গনোরিয়া বা ক্লামাইডিয়া) এবং এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে টিউব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

জরায়ুর সমস্যা (Uterine Factors):

জরায়ুতে ফাইব্রয়েড (মাংসপিণ্ড), পলিপ, বা জন্মগত ত্রুটি থাকলে নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে ঠিকমতো বসতে (ইমপ্লান্টেশন) পারে না। 

এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis):

জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ যখন জরায়ুর বাইরে (যেমন- ডিম্বাশয় বা ফ্যালোপিয়ান টিউবে) বৃদ্ধি পায়, তখন তা স্বাভাবিক গর্ভধারণে জটিলতা সৃষ্টি করে। 

বয়স ও জীবনযাত্রার প্রভাব:  

বয়স: ৩৫ বছরের পর থেকে নারীদের ডিম্বাণুর সংখ্যা এবং গুণমান কমতে থাকে, যা উর্বরতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

লাইফস্টাইল: অতিরিক্ত ওজন বা কম ওজন, অতিরিক্ত শারীরিক বা মানসিক চাপ, ধূমপান এবং মদ্যপান নারীদের উর্বরতা হ্রাস করতে পারে।

 সমাধান                                                               

                                                                                                                                                     

খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও মাদক বর্জন, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ডিম্বাণু উৎপাদন ও নিঃসরণ ওষুধ ব্যবহারে স্বাভাবিক করা যায়। ফাইব্রয়েড, পলিপ, এন্ডোমেট্রিওসিস বা টিউব-সংক্রান্ত কিছু সমস্যা অস্ত্রোপচারে ঠিক করা সম্ভব। প্রয়োজনে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা শুক্রাণু সরাসরি জরায়ুতে দেওয়া যায়। এটি আইইউআই পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। আর যখন অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে সফলতা না আসে, তখন আইভিএফ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। এ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করে তা জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীর বন্ধ্যত্বের সব কারণ স্থায়ী নয়। অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা বাড়ানো সম্ভব। তাই দীর্ঘদিন গর্ভধারণে সমস্যা হলে দেরি না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র :
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)
National Institutes of Health (NIH)
ডা. শারমিন আব্বাসি, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি ইউনিট, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।