উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে আগামী বছর: আইইএ
বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আগামী বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমতে পারে। এর আগে সরবরাহ কমার পূর্বাভাস ছিল প্রায় ৪ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথে তেলবাহী জাহাজে হামলা বেড়ে যাওয়ায় চলতি সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও দ্রুত বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে।
উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে তেলের চাহিদাও কমছে। তবে সরবরাহ কমার গতি আরও বেশি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আইইএর হিসাবে, আগস্টে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল কমেছে। মোট মজুত নেমে এসেছে ৭৮০ কোটি ব্যারেলে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বনিম্ন।
আইইএ বলেছে, এখন পর্যন্ত মজুত তেলের বাজারে ভারসাম্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে মজুতের সুরক্ষা-বাফার কমে আসায় এবং বৈশ্বিক পরিশোধন ব্যবস্থা প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চলায় বাজারে আরও সংকট এড়াতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে অগ্রগতি জরুরি।
আইইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ দৈনিক ২৩ লাখ ব্যারেল কমে ৬০ লাখ ব্যারেলে নেমে যায়, যা তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। দেশটির জ্বালানি স্থাপনা ও তেল পরিবহন ব্যবস্থায় হামলার কারণে এই পতন হয়েছে।
অন্যদিকে, চলতি বছর বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেল কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। এর আগে সংস্থাটি চাহিদা কমার পূর্বাভাস দিয়েছিল ১৬ লাখ ব্যারেল।
তবে ২০২৭ সালে তেলের ব্যবহার আবার বাড়বে বলে আশা করছে আইইএ। আগামী বছর বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি বলছে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেলের সরবরাহ আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। আগামী বছরের আগে, এসব দেশের তেল সরবরাহ পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করছে না আইইএ।
ফলে চলতি বছরজুড়েই বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: রয়টার্স
What's Your Reaction?