‘পথের পাঁচালী’ দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ক্রিস্টোফার নোলান

Jul 27, 2026 - 20:08
Sep 4, 2026 - 02:14
 0  13
‘পথের পাঁচালী’ দেখে প্রশংসায় ভাসালেন ক্রিস্টোফার নোলান

বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়কে প্রশংসায় ভাসালেন খ্যাতনামা হলিউড পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। হলিউডের অস্কারজয়ী খ্যাতনামা পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান আবারও ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ও শ্রদ্ধার কথা প্রকাশ করলেন। এবার তার প্রশংসায় ভেসেছেন বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। 

সম্প্রতি নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট’ পরিদর্শনের সময় নোলান সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ‘অপু ট্রিলজি’ নিজের জন্য বেছে নেন এবং চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ের অবদানের কথা তুলে ধরেন। 

‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লোজেট’ মূলত ক্রাইটেরিয়ন কালেকশনের একটি সুপরিচিত আর্কাইভ, যেখানে বিশ্বমানের ১,০০০টিরও বেশি কালজয়ী ক্লাসিক সিনেমা সংরক্ষিত রয়েছে। সারাবিশ্ব থেকে আসা খ্যাতনামা নির্মাতা, অভিনেতা ও শিল্পীরা প্রায়শই এই কক্ষে ঘুরে বেড়ান এবং যেসব সিনেমা তাদের অনুপ্রাণিত করেছে, সেগুলো নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

ক্রাইটেরিয়ন কালেকশনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করা একটি ভিডিওতে নোলানকে তাকগুলো ঘুরে দেখতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে তিনি ‘দি অপু ট্রিলজি’-র বক্সে এসে থামেন। 

সত্যজিৎ রায়ের প্রশংসা করে নোলান বলেন, ‘এরপর রয়েছে ভারতের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের ‘দি অপু ট্রিলজি’। এই ট্রিলজির সূচনা ‘পথের পাঁচালী’ দিয়ে, যা এক কথায় অসাধারণ এক চলচ্চিত্র। এটি দেখার পর আমি পুরো মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। ট্রিলজির দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব দুটি আমার এখনো দেখা হয়ে ওঠেনি। তাই এই সংগ্রহটি সঙ্গে নিয়ে গল্পটি শেষ করার জন্য আমি বেশ মুখিয়ে আছি।’ 

১৯৫৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পথের পাঁচালী’ হলো অপু ট্রিলজির প্রথম সিনেমা। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত বাংলা ভাষার এই চলচ্চিত্রে গ্রামীণ বাংলায় এক দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা ছোট্ট অপুর জীবনসংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। অতি সাধারণ অথচ বাস্তবধর্মী গল্পবলার শৈলী এবং গভীর আবেগের জন্য চলচ্চিত্রটি বিশ্বজুড়ে বিপুল প্রশংসিত হয়। আজও এটি পৃথিবীর সর্বকালের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। 

পরবর্তীতে অপুর শৈশব থেকে শুরু করে কৈশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে ১৯৫৬ সালে ‘অপরাজিত’ এবং ১৯৫৯ সালে ‘অপুর সংসার’ মুক্তির মাধ্যমে এই ট্রিলজিটি সম্পূর্ণ হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।