হৃদরোগে আক্রান্ত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের  রইছ

Sep 25, 2026 - 16:32
 0  4
হৃদরোগে আক্রান্ত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ চলচ্চিত্রের  রইছ

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেতা বিজয় চৌধুরী। এই জনপ্রিয় অভিনেতা  বর্তমানে অসুস্থ হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে পিসিসিইউতে রাখা হয়েছে।

বিজয় চৌধুরীর অসুস্থতার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে ফিওনা ইসলাম। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘আমার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তিনি এখন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সব বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। সবার কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আবেদন রইল। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। আমিন।’

শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে অভিনেতার ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার এক ভাগ্নের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়েছিলেন তার বাবা। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরে দ্রুত তাকে ঢাকায় এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। বর্তমানে পিসিসিইউতে রেখে তার চিকিৎসা চলছে।

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাটি প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিশেষ করে সিনেমার শেষদিকে রইছ চরিত্রের আত্মত্যাগ আজও দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। আর সেই চরিত্রেই অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান বিজয় চৌধুরী।

‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এ অভিনয়ের সময় বিজয়ের বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। বর্তমানে ৫৪ বছরে পা দেওয়া এই অভিনেতাকে দর্শক এখনো মূলত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ নামেই মনে রেখেছেন।

রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা বিজয় চৌধুরীর অভিনয়ে অভিষেক হয় ১৯৯৩ সালে। পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। এরপর আরও দুই-তিনটি সিনেমায় অভিনয় করলেও রইছ চরিত্রের মতো আর কোনো চরিত্র তার অভিনয়জীবনে সমান পরিচিতি এনে দিতে পারেনি। ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর পর আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করেননি বিজয়।

১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয় চৌধুরী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। অভিনেতার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিজয় একজন।

বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।