স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বোতল
প্লাস্টিকের বোতল মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় সঙ্গী হয়ে পড়েছে। মিনারেল ওয়াটার, কোমল পানীয় এবং বিভিন্ন ফলের জুস পাওয়া যায় প্লাস্টিকের বোতলে। এ বোতলগুলো পলি-ইথিলিন টেরেপথেলেট নামের প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।
একবার ব্যবহার্য। এই বোতলগুলো আমরা প্রায় সময় সপ্তাহ বা মাস ধরে বারবার ব্যবহার করি। যত দিন নষ্ট না হচ্ছে, তত দিনই ব্যবহার করি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ জানান, একবার ব্যবহার্য বোতল বারবার ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বোতলগুলো পরিষ্কার করা বা পরিষ্কার রাখা সহজ নয় বলে বারবার ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
► এসব বোতলের মুখ সরু। তাই ভেতরটা পরিষ্কার করা কঠিন। ব্যবহারের সময় হাতের স্পর্শে বা ঠোঁটের ছোঁয়ায় জীবাণু লেগে যেতে পারে বোতলের মুখের প্যাঁচে।
পরে সেখান থেকে জীবাণু চলে যাবে বোতলের ভেতরে। দিনে দিনে বৃদ্ধি পাবে জীবাণু এবং বাড়াবে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
► একই বোতল থেকে একাধিক ব্যক্তি মুখ লাগিয়ে পানি বা পানীয় পান করলে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে।
► বারবার ব্যবহারে বোতলের গায়ের নানা স্থানে টোল পড়ে। টোল পড়া জায়গায় জীবাণু বসবাস এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।
সঠিক উপায়ে এসব বোতল না ধোয়ার কারণে এসব জীবাণু ভালোভাবে পরিষ্কার হয় না। এসব জীবাণুর কারণে পেটের বিভিন্ন পীড়া, যেমন—পেটব্যথা, ফুড পয়জনিং, বমি, পাতলা পায়খানা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
► বারবার ব্যবহারের সময় প্লাস্টিকের কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে শরীরের ক্ষতি করে কি না, সে চিন্তাও মাথায় রাখতে হবে।
► পানিতে লৌহ ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ থাকে। সে জন্য বারবার ব্যবহারে বোতলের ভেতরটা লাল হয়ে যেতে পারে। বিশ্রী দেখাবে তখন। জীবাণুও থাকবে। এ রকম বোতলের ব্যবহার অবশ্যই বাদ দিতে হবে।
► অন্যের মুখে দেওয়া বোতলের পানি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
► এসব একবার ব্যবহার্য বোতলে বারবার পানি ভরলে, রোদ বা গরম পানির সংস্কর্শে এলে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক পানির সাথে মিশে যায়। দীর্ঘমেয়াদে যা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রজনন সমস্যা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
► ক্রমাগত ব্যবহার ও ঘর্ষণের ফলে বোতল থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম প্লাস্টিকের কণা পানিতে ঝরে পড়ে। নিয়মিত এসব পানি পানের ফলে শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়ে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।
তাই একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের বোতল একাধিকবার ব্যবহার না করাই ভালো। সূত্র: কালের কণ্ঠ
What's Your Reaction?