শিশুর গলায় খাবার বা কিছু আটকে গেলে করণীয়
শিশুর গলায় খাবার, খেলনার ছোট অংশ বা অন্য কোনো বস্তু আটকে যাওয়া একটি জরুরি পরিস্থিতি। এমন মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে শিশুকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ:
যদি শিশু কাশতে পারে বা শব্দ করতে পারে, তার মানে এয়ারওয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এক্ষেত্রে কাশতে উৎসাহিত করুন। অনেক সময় কাশির মাধ্যমেই আটকে থাকা জিনিস বেরিয়ে আসে। শিশু নিজে চেষ্টা করা অবস্থায় পিঠে থাপ্পড় দেবেন না বা মুখে আঙুল দেবেন না, এতে বস্তুটি আরও ভেতরে চলে যেতে পারে। যদি আটকে থাকা বস্তুটি বের না হয় এবং বাচ্চার বয়স ১ বছরের কম হয়, সেক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপ হবে-
➤পিঠে চাপড় : শিশুকে আপনার এক হাতের ওপর উপুড় করে ধরুন। মাথা যেন শরীরের চেয়ে নিচের দিকে থাকে। আপনার হাতের তালুর গোড়ালি দিয়ে বাচ্চার দুই কাঁধের মাঝখানে ৫ বার হালকা কিন্তু দৃঢ়ভাবে থাপ্পড় দিন।
➤ বুকে চাপ : পিঠে চাপড়ে যদি কাজ না হয়, তবে বাচ্চাকে চিত করে শুইয়ে বুকের মাঝখানে (নিপলের ঠিক নিচে) দুই আঙুল দিয়ে ৫ বার চাপ দিন। আটকে থাকা বস্তুটি না বের হলে এ সাইকেল রিপিট করতে হবে।
১ বছরের বেশি বয়সি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে পদ্ধতিটি হবে ভিন্ন। এক্ষেত্রে শিশুকে-
➤ কাশতে উৎসাহিত করুন। তাকে বারবার কাশতে বলুন যাতে কাশির ধাক্কায় আটকে থাকা বস্তু বের হয়ে আসে।
➤ যদি সমস্যাটি গুরুতর হয় অর্থাৎ যদি শিশু একদম শব্দ করতে না পারে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় বা চেহারা নীল হতে শুরু করে, তবে দ্রুত নিচের পদক্ষেপগুলো নিন-
➤ স্টেপ-ওয়ান : অন্যদের ডাকুন এবং কাউকে দ্রুত জরুরি সেবা বা অ্যাম্বুলেন্স কল করতে বলুন।
➤ স্টেপ-টু : শিশুর পেছনে চলে যান এবং তাকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। আপনার হাতের তালুর নিচের শক্ত অংশ দিয়ে শিশুর দুই কাঁধের হাড়ের মাঝখানে ৫টি জোরালো আঘাত করুন।
➤স্টেপ থ্রি : শিশুর পেছনে দাঁড়িয়ে বা হাঁটু গেড়ে বসে (শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী) তার কোমর জড়িয়ে ধরুন।
এক হাতের মুষ্টি তৈরি করে শিশুর নাভির ঠিক ওপরে (পাঁজরের নিচে) রাখুন। অন্য হাত দিয়ে মুষ্টিটি চেপে ধরে ভেতরের দিকে এবং ওপরের দিকে ৫ বার জোরে চাপ দিন।
➤ স্টেপ ফোর : যতক্ষণ না আটকে থাকা বস্তুটি বের হয়ে আসে অথবা শিশু জ্ঞান না হারায়, ততক্ষণ পর্যায়ক্রমে ৫ বার পিঠে চাপড় এবং ৫ বার পেটে চাপ দেওয়া চালিয়ে যান। যদি ব্যাক ব্লো বা থ্রাস্ট দেওয়ার সময় বাচ্চা নিস্তেজ হয়ে পড়ে বা সেন্স হারিয়ে ফেলে, তবে তৎক্ষণাৎ অ্যাম্বুলেন্স ডাকুন এবং সিপিআর শুরু করুন। দ্রুত হসপিটালে নিন।
যেগুলো কখনো করা যাবে না
▶ বাচ্চা কাশতে থাকা অবস্থায় তাকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না।
▶ আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করবেন না, এতে শিশু আরও ভয় পেয়ে শ্বাস নিতে কষ্ট পেতে পারে।
প্রতিরোধে কী করবেন
▶ খাবার সবসময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন।
▶ শিশুকে শুয়ে বা দৌড়াদৌড়ি করা অবস্থায় খাওয়াবেন না।
▶ ছোট বোতাম, পুঁতি, বাদাম, কয়েন বা মার্বেল বাচ্চার নাগালের বাইরে রাখুন।
আতঙ্কিত না হয়ে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
সূত্র :
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ,মুগদা মেডিকেল কলেজ হসপিটাল।
What's Your Reaction?