যুদ্ধের তান্ডব শেষে দিশেহারা অর্থনৈতিক অবকাঠামো, ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ইরানের
দীর্ঘ সংঘাত ও রক্তক্ষয়ী হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জেরে ইরানের অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো থমকে গেছে। মুদ্রাস্ফীতির পর এখন ইরানের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের ১ এপ্রিল সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলি বিমান হামলায় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হলে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ইরান সরাসরি ইসরায়েলের অভিমুখে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র চালানোর মাধ্যমে এই যুদ্ধের সূচনা ঘটায়। সংঘাতের প্রথম দিন থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিপক্ষের ওপর্যুপরি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটির বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, স্থবির হয়ে পড়েছে অর্থনীতি, আর চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন সাধারণ নাগরিক।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত প্রাণকেন্দ্রগুলোকে প্রধান নিশানা করা হয়। এতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে পঙ্গু হয়ে পড়ে। শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, সংঘাতের মধ্যবর্তী সময়ে প্রধান প্রধান তেল শোধনাগার ও বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা চালানোয় স্তব্ধ হয়ে যায় দেশের শক্তি খাত। ধস নামে ইরানের আয়ের মূল উৎস জ্বালানি রপ্তানিতে।
এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী,ইরানি মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মান ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। বাজারে খাদ্যদ্রব্য ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের তীব্র ঘাটতির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি।
অন্যদিকে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন বহু মানুষ। নিজের দেশেই ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ নাগরিক, যা এক নতুন মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ থমকে গেলেও ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা তেহরানের সামনে এখন এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। পঙ্গু হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করা, বিধ্বস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং গৃহহীন লাখ লাখ পরিবারকে পুনর্বাসন করাই এখন ইরানের সবচেয়ে বড় ও কঠিন পরীক্ষা
What's Your Reaction?