মানবেতর জীবন কাটছে চিরকুমার কৈলাশের , শেষ বয়সেও ঘর বাঁধেনি

Jul 12, 2026 - 18:31
 0  23
মানবেতর জীবন কাটছে চিরকুমার কৈলাশের , শেষ বয়সেও ঘর বাঁধেনি

যৌবনে ঘর বাঁধার সুযোগ থাকলেও নানা কারণে আর বিয়ে করা হয়নি। দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেছে যৌবন ও জীবন থেকে আঁশিটা বছর , এসেছে বার্ধক্য। চিরকুমার কৈলাশের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মানবেতর জীবন কাটছে । এই জীবনে হারানোর মতো কিছুই নেই তার , নেই স্ত্রী,  নেই সন্তান, নেই আপনজনের সঙ্গ। ডোবার ওপর বাঁশ ও টিনের তৈরি ছোট্ট একটি চালাতেই কাটছে আশির্ধ্ব চিরকুমার কৈলাশের বার্ধক্য।।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যৌবনের সময় ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চলনা গ্রামের বসতভিটা হারিয়ে তিনি ভিষন অসহায় হয়ে পড়েন পরিশেষে তিনি কোনো পথ না পেয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামে বড় বোন সিন্ধু বালার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহন করেন । এরপর থেকে বড় বোনের সংসারেই জীবনের দীর্ঘ সময় কেটে যায় তাঁর ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন ধরনের কাজ করে বোনের সংসারের দায়িত্ব পালন করেছেন কৈলাশ। কিন্তু নিজের সংসার গড়ার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি। বিয়েও করেননি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো শুনতে পান না, স্পষ্ট করেও কথা বলতে পারেন না। 

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঘগোয়া গ্রামের এক কোণে ডোবার ওপর নির্মিত জীর্ণ চালাটিই এখন তাঁর একমাত্র আশ্রয়। দূর থেকে পরিত্যক্ত ঘর মনে হলেও কাছে গেলে দেখা মেলে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এক অসহায় বৃদ্ধের।

এরই মধ্যে মারা গেছেন তাঁর বড় বোন সিন্ধু বালা ও দুলাভাই বিপিন। নিজের নামে কোনো জমিজমা কিংবা স্থায়ী আয়ের উৎস না থাকায় চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর।

প্রতিবেশীরা জানান, স্থানীয়দের দেওয়া খাবার ও সামান্য সহায়তায় কোনোমতে বেঁচে আছেন কৈলাশ। অসুস্থ হলেও নিয়মিত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয় না। বর্ষাকালে ডোবার পানি বেড়ে গেলে তাঁর দুর্ভোগ আরও বাড়ে। ঝড়-বৃষ্টির রাতে জীর্ণ চালাটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় তাঁকে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যৌবনে অন্যের সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ভবিষ্যতের কথা ভাবার সুযোগ পাননি তাই নিরাপদ বাসস্থান, বয়স্ক ভাতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের বিত্তবান মানুষের মানবিক উদ্যোগ পেলে জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত একটু স্বস্তিতে কাটাতে পারবেন অসহায় এই বৃদ্ধ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।