বিচ্ছেদের পরও ৬০% মানুষই ধরে রাখেন প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব
বিভিন্ন কারণে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। সেটা হতে পারে অবিশ্বাস, সন্দেহ, তিক্ততা। তবে মিউচুয়ালিও অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায়। আবার কারও গভীর ভালোবাসা কমে যাওয়ার কারণেও সম্পর্কচ্ছেদ হতে পারে। এরপরও দিনশেষে একে অপরের খোঁজ নেওয়া থামেনি। অটুট রয়ে গেছে বন্ধুত্বও। কিন্তু কেন? বিচ্ছেদের তীব্র ঝড় বয়ে যাওয়ার পরও কেন অনেকে সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন?
পুরোনো অভ্যাস
দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে প্রাক্তনের সঙ্গে কথা বলা বা শেয়ার করার অভ্যাস সহজে কাটতে চায় না, তাই অনেকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেন।
মানসিক সমর্থন ও ভরসা
বিচ্ছেদের পরও বিপদে-আপদে বা প্রয়োজনে পুরোনো মানুষটির ওপর ভরসা করা যায় বলে অনেকে দূরত্ব তৈরি করেন না।
ঝামেলা এড়াতে বন্ধুত্ব
বিচ্ছেদের পর অনেকেই নতুন করে ঝগড়া বা মনোমালিন্যে জড়াতে চান না। তাই সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে ভদ্রভাবে কথা বলেন, খোঁজখবর রাখেন এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেন। কেউ কেউ মনে করেন, সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে অন্যজন কষ্ট পেতে পারেন। আবার একই বন্ধুদের সঙ্গে চলাফেরা করলে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। এসব কারণেও তারা বন্ধুত্ব বজায় রাখেন। তবে শুধু ঝামেলা এড়ানোর জন্য যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, তা বেশির ভাগ সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব কি খারাপ?
সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা মানেই যে পুরোনো প্রেম ফিরে আসবে, এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে ভালোবাসার অনুভূতি কমে যাওয়ার পরও বন্ধুত্ব থাকতে পারে। আবার কারও বিচ্ছেদ হয় কোনো তিক্ততা ছাড়াই। তাই দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখাও সম্ভব।
সাইকোলজি টুডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষের অন্তত একজন সাবেক প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রয়েছে। প্রায় ২০ শতাংশের একাধিক সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে বন্ধুত্ব আছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিষমকামীদের তুলনায় এলজিবিটিকিউ ব্যক্তিদের মধ্যে বিচ্ছেদের পর বন্ধুত্ব বজায় রাখার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
তবে সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজনের চাওয়া এক কি না। একজন যদি পুরোনো সম্পর্ক ভুলে সামনে এগোতে চান, আর অন্যজন যদি এখনো ফিরে আসার আশা করেন, তাহলে বন্ধুত্ব দুজনের জন্যই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
What's Your Reaction?