ফেলনা ঝুটেই গড়ে উঠেছে কোটি টাকার ব্যবসা
পোশাক কারখানা থেকে বের হওয়া কাপড়ের টুকরা ও ঝুট একসময় ছিল বর্জ্য। এখন সেই ফেলনা উপকরণকে ঘিরেই গাজীপুরে গড়ে উঠেছে বড় ধরনের ব্যবসা। পোশাকশিল্পের বর্জ্য সংগ্রহ, বাছাই, প্রক্রিয়াজাত ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে হাজারো মানুষের।
গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ঝুট ও তুলার বর্জ্য বের হয়। এসব বর্জ্য ফেলে না দিয়ে সংগ্রহ করে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। পরে সেগুলো রং, ধরন ও মান অনুযায়ী আলাদা করা হয়।
প্রক্রিয়াজাত করার পর এসব ঝুট বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় স্পিনিং মিল ও ছোট-বড় বিভিন্ন কারখানায় এসব উপকরণ সরবরাহ করা হয়। কিছু ঝুট বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। গাজীপুরের টঙ্গী, কালিয়াকৈর, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝুটের বাজার গড়ে উঠেছে।
এই ব্যবসার সঙ্গে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, ঝুট সংগ্রহ, পরিবহন, বাছাই ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিকও যুক্ত রয়েছেন। ফলে পোশাকশিল্পের বর্জ্য এখন অনেক মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুট পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন বর্জ্য কমানো সম্ভব, অন্যদিকে নতুন কাঁচামাল উৎপাদনের চাপও কমে। আরও আধুনিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে।ফেলে দেওয়া কাপড়ের টুকরো এখন আর শুধু বর্জ্য নয়—গাজীপুরে সেটিই হয়ে উঠেছে একটি সম্ভাবনাময় ব্যবসার কাঁচামাল।
What's Your Reaction?