নক্ষত্র হয়ে জেগে আছেন চিরঘুমের দেশে গিয়েও তিনি 

Aug 16, 2026 - 18:21
Sep 4, 2026 - 02:52
 0  10
নক্ষত্র হয়ে জেগে আছেন চিরঘুমের দেশে গিয়েও তিনি 

গানের ভুবনে অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি পরিচয়ে অনন্য কণ্ঠশিল্পী, সুরকার, সংগীত পরিচালক, গীতিকার, গিটার শিল্পী। যাঁর নামের পাশে শোভা পায় একাধিক বিশেষণ– ‘কিংবদন্তি, ‘রক আইকন’, ‘সংগীত মহিরুহ’, ‘দেশসেরা রকস্টার’, ‘গিটার জাদুকর’  সেই কিংবদন্তি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন আজ ।

তাঁর অনবদ্য অগণিত সৃষ্টি হয়ে উঠেছে চিরকালীন। যে কারণে আইয়ুব বাচ্চুকে ঘিরে যখনই কোনো আয়োজন হয়, তা ভক্ত-অনুরাগীদের কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়। এবারের জন্মদিন ঘিরে যে আয়োজনের কথা জানিয়েছে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশন, তা রীতিমতো ঝড় তুলেছে ভক্তদের মাঝে। কারণ একটাই, আইয়ুব বাচ্চু ও তাঁর ব্যান্ড এলআরবির ২০টি কালজয়ী গান নতুন সংগীতায়োজনে প্রকাশ করা হচ্ছে।

সেটিও আবার ডাবল অ্যালবাম আকারে, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘উত্তরাধিকার’। এতে আইয়ুব বাচ্চুর আলোড়ন সৃষ্টিকারী গানগুলো নতুন সংগীতায়োজনে পরিবেশন করেছে এ সময়ের আলোচিত আটটি ব্যান্ড ও ১২ জন কণ্ঠশিল্পী। এর মধ্যে দলছুট গেয়েছে ‘রুপালি গিটার’, শুভযাত্রা ‘চলো বদলে যাই’, সোনার বাংলা সার্কাস ‘গতকাল রাতে’, আরবোভাইরাস ‘নীল বেদনা’, রকসল্ট ‘অচেনা জীবন’, ডোপামিন ‘মাধবী’, ক্যালিপসো ‘চাঁদ মামা’ এবং এ কে রাহুলের ব্যান্ড ‘মন চাইলে মন’।

পাশাপাশি কণ্ঠশিল্পী বাবনা করিম ও রাসেল আলী গেয়েছেন ‘হাসতে দেখো’, জামান আলী চন্দন-মেনন চন্দন ‘মেয়ে’, কানিজ সুবর্ণা ও সাজ্জাদ ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, পলাশ ‘আপন কেহ নাই’, বখতিয়ার হোসেন ‘রাতের তারা’, অটামনাল মুন ‘হকার’, রোমেল আলী ‘এখন অনেক রাত’, জয় শাহরিয়ার ‘কষ্ট কাকে বলে’, অদিত ‘ঘুমন্ত শহরে’, আতিকা ইয়ামিন ‘ফেরারি এই মন’, কনক আচার্য্য ‘নীরবে’ এবং তওফিক-এবি মেনন গেয়েছেন ‘বাংলাদেশ’। অ্যালবামটির সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন ব্যারিস্টার চিশতি ইকবাল।

এ আয়োজন নিয়ে আইয়ুব বাচ্চু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্পী সহধর্মিণী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা বলেন, “আইয়ুব বাচ্চু ও তাঁর সৃষ্টি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নানা আয়োজন করতে চাই। এবারের জন্মদিন ঘিরেও কিছু একটা করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেই আয়োজন কেমন বা কী হবে– সে প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা ছিল না। অনেক সময় হঠাৎ করে কিছু একটা হয়ে যায়। ‘উত্তরাধিকার’ অ্যালবামের বেলায় সেটি হয়েছে। অনেক আগে থেকে এমন কিছু করার পরিকল্পনা ছিল, বিষয়টি তা নয়। দুই মাস আগে হঠাৎ করে অ্যালবামের ভাবনাটি মাথায় এসেছে।

ইউটিউব ছাড়াও আলাদাভাবে গান প্রকাশ করা যায় কিনা, তা নিয়ে কথা বলতে গিয়েই এই পরিকল্পনা মাথায় আসে, যার বাস্তব রূপদানকারী চিশতি ইকবাল। অ্যালবামের সমন্বয়ক হিসেবে তিনি যেভাবে কাজটি করেছেন, তা বিস্মিত করার মতো। তবে শুরু থেকে বিশ্বাস ছিল, এখনও আছে– চিশতি সঙ্গে থাকলে অনেক কিছু করা সম্ভব। আশা করছি, এই আয়োজন আইয়ুব বাচ্চুর ভক্ত-অনুরাগীদের দীর্ঘদিনের তৃষ্ণা মেটাবে।”  

ফেরদৌস আক্তার চন্দনা আরও জানান, ‘উত্তরাধিকার’-এর মতো বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে তা দুই মাসের ব্যবধানে শেষ করা এবং আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিনে তা প্রকাশ করা রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। তারপরও কাজটি কীভাবে সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কথা বলবেন। জানাবেন ‘উত্তরাধিকার’ সৃষ্টির আদ্যোপান্ত। ‘১৬ আগস্ট’ তারিখটি আইয়ুব বাচ্চুর জন্মদিন উপলক্ষে উদযাপনের দিন হয়ে উঠেছে। এদিন তাই অনেকে খুলে বসেন স্মৃতির ঝাঁপি। শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় স্মরণ করেন তাঁর কালের শ্রেষ্ঠ এই শিল্পীকে।

এবারের জন্মদিনেও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই মত ভক্ত-অনুরাগী ও সংগীতভুবনের বাসিন্দাদের। কারণ আইয়ুব বাচ্চু সবসময় প্রাসঙ্গিক। ঠিক তাঁর গাওয়া গানের মতো; যেখানে তিনি সুরে সুরে বলে গেছেন– ‘এক জন্মহীন নক্ষত্রের মতো, জেগে আছি আমি; এক জন্মহীন নক্ষত্রের মতো না হয় জেগে থাকব...।’ ঠিক এই কথার মতো চিরঘুমের দেশে গিয়েও জেগে আছেন নক্ষত্র হয়ে। স্মরণের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন অগণিত সংগীতপ্রেমীর।

তাই আজকের এই দিনটিতে আইয়ুব বাচ্চুর অনবদ্য সৃষ্টি, অনিন্দ্য গায়কী, শোণিতধারায় ঝড় বইয়ে দেওয়া গিটার বাদন নিয়ে অনুরাগীরা আলোচনায় মুখর হবেন। কেউ আবার স্মৃতি রোমন্থনে ডুব দেবেন; মনে করিয়ে দেবেন, কীভাবে তিনি হয়ে উঠেছিলেন তাঁর কালের শ্রেষ্ঠ ব্যান্ড তারকা; কেন তাঁর গানগুলো এখনও শ্রোতামনে অনুরণন তুলে যাচ্ছে। সেই সব আলোচনায় ঘুরেফিরে এই সত্যি উঠে আসবে– শিল্পীর মৃত্যু নেই। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

বিনোদন ভিশন: বাংলা ভাষায় চলচ্চিত্র, নাটক, সংগীত, ডিজিটাল মিডিয়া, সংস্কৃতি এবং সৃজনশীল অর্থনীতি সম্পর্কে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য Creative Economy & Cultural Intelligence Platform হওয়া; যা শিল্পী, নির্মাতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষার্থী এবং সংস্কৃতিমনস্ক পাঠকদের জন্য প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: চলচ্চিত্র, নাটক, ওটিটি, সংগীত, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পকে তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গবেষণা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উপস্থাপন করা; যাতে সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি তৈরি হয় এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ইতিবাচক অবদান রাখা যায়।