তীব্র গরমে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কী করবেন?
দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা (Dehydration) এবং গরমজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার ঝুঁকিও বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে সামান্য অসাবধানতাও গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)-এর তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, বাইরে কর্মরত ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাই এ সময় সবারই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান করুন
World Health Organization (WHO) জানায়, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বের হয়ে যায়। তাই তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত নিরাপদ পানি পান করতে হবে। প্রয়োজনে ওরস্যালাইন, ডাবের পানি বা অন্যান্য স্বাস্থ্যকর তরল পানীয়ও গ্রহণ করা যেতে পারে।
দুপুরের প্রখর রোদ এড়িয়ে চলুন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা ক্যাপ ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করুন।
হালকা পোশাক ও নিরাপদ খাবার বেছে নিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতি পোশাক শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেল-ঝাল বা দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবার এড়িয়ে তাজা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত, যাতে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে।
শরীরের সতর্ক সংকেতকে অবহেলা করবেন না
Centers for Disease Control and Prevention (CDC)-এর তথ্যমতে, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, বমি, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নিন
WHO বলছে, শিশু ও বয়স্কদের শরীর তাপমাত্রার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে না। তাই তাদের পর্যাপ্ত পানি পান করানো, ঠান্ডা পরিবেশে রাখা এবং দীর্ঘ সময় রোদে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে সচেতনতা ও কিছু সহজ অভ্যাসই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান, প্রখর রোদ এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং শরীরের অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে গরমের বিরূপ প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র (References)
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (Directorate General of Health Services - DGHS)
World Health Organization (WHO)
Centers for Disease Control and Prevention (CDC)
What's Your Reaction?