জ্বালানিসংকট নিরসনে জামায়াতের ৪ দফা প্রস্তাব 

Aug 17, 2026 - 10:20
 0  9
জ্বালানিসংকট নিরসনে জামায়াতের ৪ দফা প্রস্তাব 
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রস্তাবগুলো পেশ করেন। মগবাজার, ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬
 
জ্বালানিসংকট নিরসনে স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) নিয়ে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠনসহ চার দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি নির্দিষ্ট আর্থিক সীমার মধ্যে জরুরি ওয়ার্কওভার ও সংস্কারকাজের অনুমোদনক্ষমতা রাষ্ট্রায়ত্ত পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের পরিচালনা পর্ষদে দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলেছে।জামায়াতের অন্য প্রস্তাবগুলো হলো রূপপুর বেজ লোড প্ল্যান্ট (পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র) উৎপাদনে এলে কখন আসবে এবং এর ট্যারিফ কী হবে, সেটি দেশের জনগণকে জানানো; জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের জন্য স্থায়ী মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা এবং অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর জন্য একক তদারকি ব্যবস্থা করা, কোন ফাইল কোথায় কত দিন আটকে আছে, সেই তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা।আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ প্রস্তাবগুলো পেশ করেন। দেশের চলমান জ্বালানিসংকট ও উদ্ভূত পরিস্থিতি বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চট্টগ্রামের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রায় টার্মিনাল করার কথা ছিল, সেটি হয়েছে কি না, তা জনগণ জানে না। খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তৈরি হলেও আজও কমার্শিয়াল উৎপাদনে যেতে পারেনি।প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আপনি বলেছেন পরিকল্পনা দিন। আমরা বলছি, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। আপনি বলেছেন, ভালো পরিকল্পনা হলে বাস্তবায়ন করবেন। আমরা বলছি, বিরোধী দলের ১০ দফা এবং সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে আজ থেকেই একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করুন। সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বিপিডিবি, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করুন।’মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আজ থেকে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিন। কোন সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি হয়নি, কত গ্যাস বেড়েছে, কত সিস্টেম লস কমেছে, কত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে—জনগণ সেই হিসাব দেখুক। আমাদের প্রস্তুত করা খসড়ায়ও ৯০ দিন পর অগ্রগতি প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন এবং বিরোধী দলের সদস্যসহ বিশেষ কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনার প্রস্তাব রয়েছে।’সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চান না উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জ্বালানিসংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকুক, সমালোচনা থাকুক, কিন্তু জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের প্রতিযোগিতা হোক কে বেশি কার্যকর সমাধান দিতে পারে, কে বেশি স্বচ্ছ থাকতে পারে, কে জনগণের কাছে বেশি জবাবদিহি করতে পারে।’প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা আপনার সরকারের কাছেই আছে। আজ আবারও আমরা সেটি সামনে রাখলাম। এখন প্রশ্ন একটাই, বাস্তবায়ন শুরু হবে, নাকি আবার নতুন পরিকল্পনা ও নতুন কমিটির অপেক্ষায় থাকতে হবে? আমরা ৯০ দিন পর হিসাব চাইব। সরকারকে বিব্রত করার জন্য নয়। দেশের মানুষের পক্ষে। আর দেশের স্বার্থে সরকার যদি কোনো কার্যকর, স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেয়, দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে আমরা সহযোগিতা করব।’কী করে খুঁজে পাবেন, ফিল্ডে ছিলেন না।সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান বিরোধী দলকে ১৭ বছর রাজপথে খুঁজে পাওয়া যায়নি ও তাঁরা গুপ্ত ছিলেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘১৭ বছর যাদেরকে আপনি খুঁজে পাননি, কী করে খুঁজে পাবেন, আপনার অনেক নেতা-মন্ত্রীরা খুঁজে পায় না কারণ আন্দোলনের দৃশ্য উনারা তো টেলিভিশনে বসে দেখেছেন, ফিল্ডে (মাঠে) ছিলেন না। যিনি বলেন আর যাঁরা বলেন তাঁরা তো মাঠ থেকে দেখেননি, তাঁরা বসে বসে ঘরে ভিডিও আর টিভি দেখেছেন।’
 
প্রধানমন্ত্রীর মুখে ‘গুপ্ত শব্দটি ভেরি আনফরচুনেট’ বলে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, ১৭ বছর জামায়াতের শত শত নেতা-কর্মী জেল খেটেছে, প্রতিটি কর্মসূচিতে গুলির মুখে বুক পেতে রাজপথে আহত হয়েছে। তবে অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ কর্মসূচি দিয়ে আসেনি, এমন ঘটনাও ঘটেছিল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ফিচার Vision: বাংলা ভাষায় গভীর অনুসন্ধান, দীর্ঘ আকারের সাংবাদিকতা, মানবিক গল্প এবং বিশ্লেষণধর্মী বর্ণনামূলক প্রতিবেদনের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য Narrative Journalism Platform হওয়া; যা সময়, সমাজ এবং মানুষের পরিবর্তনের একটি স্থায়ী জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: সমসাময়িক ঘটনা, ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি, ধারণা এবং পরিবর্তনকে গভীর গবেষণা, অনুসন্ধান, সাক্ষাৎকার, তথ্য, ইতিহাস এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে উপস্থাপন করা; যাতে পাঠক কেবল ঘটনা জানতে না পারেন, বরং সেই ঘটনার মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যও উপলব্ধি করতে পারেন।