অতি গরম চা-কফিতে বাড়তে পারে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি

Sep 9, 2026 - 17:53
 0  8
অতি গরম চা-কফিতে বাড়তে পারে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকি

সকালের এক কাপ গরম চা কিংবা ধোঁয়া ওঠা কফি—দিন শুরুর সঙ্গে অনেকেরই জড়িয়ে আছে এই অভ্যাস। কেউ আবার কাপ হাতে নিয়েই চুমুক দেন, পানীয়টি একটু ঠান্ডা হওয়ার অপেক্ষাও করেন না। তবে অতিরিক্ত গরম চা-কফি নিয়মিত পান করার এই অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। সাম্প্রতিক এক বড় গবেষণায় খুব গরম পানীয় পান করার সঙ্গে খাদ্যনালীর এক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কতটা গরম পানীয় ঝুঁকিপূর্ণ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ। এতে যুক্তরাজ্যের ৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে ‘খুব গরম’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, পানীয় যত গরম এবং তা যত বেশি পরিমাণে পান করা হয়, খাদ্যনালীর স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের ঝুঁকিও তত বাড়তে পারে। দিনে ছয়বার বা তার বেশি গরম পানীয় পান করার অভ্যাসের সঙ্গেও ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

খাদ্যনালীর ক্ষতি হয় যেভাবে

অত্যন্ত গরম তরল নিয়মিত খাদ্যনালীর ভেতরের আস্তরণের সংস্পর্শে এলে সেখানে তাপজনিত ক্ষতি ও প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের এমন ক্ষতির সঙ্গে কোষের পরিবর্তন এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক থাকতে পারে।

এখানে মূল বিষয় চা বা কফি নিজে নয়, বরং পানীয়ের তাপমাত্রা। দুধ মেশালে পানীয় কিছুটা ঠান্ডা হতে পারে, তবে দুধ-চা বা দুধ-কফিও যদি খুব গরম অবস্থায় পান করা হয়, তাহলে তাপমাত্রাজনিত ঝুঁকি থেকেই যায়।

কতক্ষণ অপেক্ষা করবেন

চা বা কফি তৈরি করার পর সঙ্গে সঙ্গে পান না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই ভালো। তবে পানীয় ঠিক কত মিনিট পর পান করা নিরাপদ, তার নির্দিষ্ট সময় নেই। কারণ কাপের আকার, পরিবেশের তাপমাত্রা এবং পানীয়ের পরিমাণ অনুযায়ী ঠান্ডা হওয়ার সময় আলাদা হতে পারে।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের পরামর্শ হলো, পানীয় খুব গরম অবস্থায় না খেয়ে আরামদায়ক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

গবেষক ড. কেরেন পাপিয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, খুব গরম চা-কফি পান করার সঙ্গে খাদ্যনালীর স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় অত্যন্ত গরম ‘মাটে’ পানীয় পানকারীদের মধ্যেও এ ধরনের সম্পর্ক আগে দেখা গেছে।

তবে পানীয়ের ঠিক কোন তাপমাত্রা থেকে ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে, তা আরও নির্দিষ্টভাবে জানতে গবেষণা প্রয়োজন। আগের গবেষণাগুলোতেও খুব গরম পানীয় ও খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

কফি কত ডিগ্রি তাপমাত্রায় পান করা উচিত, তার কোনো একক বৈজ্ঞানিক ‘আদর্শ’ তাপমাত্রা নেই। তবে গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার পানীয়কে খুব গরম হিসেবে ধরা হয়।

তাই কফি বা চা এমন তাপমাত্রায় পান করা ভালো, যাতে জিহ্বা বা মুখে জ্বালা না করে এবং আরামদায়কভাবে পান করা যায়।

গবেষণায় খুব গরম পানীয়ের সঙ্গে খাদ্যনালীর স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এর অর্থ এই নয় যে গরম চা-কফি পান করলেই ক্যান্সার হবে। খাদ্যনালীর এই ধরনের ক্যান্সার তুলনামূলকভাবে বিরল এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকির ওপর আরও অনেক বিষয় প্রভাব ফেলে।

ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ খাদ্যনালীর ক্যান্সারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। তাই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে শুধু পানীয়ের তাপমাত্রা নয়, এসব অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল করবেন

খাদ্যনালীর ক্যান্সারের সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে গিলতে সমস্যা বা ব্যথা, বুক জ্বালাপোড়া, বদহজম, গলা বা বুকে ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকতে পারে।

এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে কারণ ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

চা-কফি ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শুধু অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাসটি বদলানোই গুরুত্বপূর্ণ। পান করার আগে একটু অপেক্ষা করে আরামদায়ক তাপমাত্রায় নামিয়ে নিলে ঝুঁকি কমানোর একটি সহজ পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।