মাসিকের মাঝামাঝি তলপেটে ব্যথা, হতে পারে ডিম্বস্ফোটন

Sep 3, 2026 - 18:32
 0  15
মাসিকের মাঝামাঝি তলপেটে ব্যথা, হতে পারে ডিম্বস্ফোটন

মাসিকের সময় পেটে ব্যথা হওয়াকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখেন বেশিরভাগ নারী। কিন্তু মাসিকের মাঝামাঝি হঠাৎ তলপেটের একপাশে ব্যথা বা টান ধরলে অনেকেই বুঝতে পারেন না, এর কারণ কী। চিকিৎসকদের মতে, মাসিক চক্রের এই সময়ে এমন ব্যথা ডিম্বস্ফোটনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সব ধরনের তলপেটের ব্যথাকে Ovulation Pain ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। ব্যথার ধরন, স্থায়িত্ব ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য উপসর্গের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজন হতে পারে চিকিৎসকের পরামর্শেরও।

ডিম্বস্ফোটন কী?

ওভুলেশন (Ovulation) বা ডিম্বস্ফোটন হলো মাসিক চক্রের এমন একটি পর্যায়, যখন ডিম্বাশয় থেকে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণু নির্গত হয়। সাধারণত পরবর্তী মাসিক শুরুর প্রায় ১৪ দিন আগে বা মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে এটি ঘটে। তবে সবার মাসিক চক্রের দৈর্ঘ্য এক না হওয়ায় ওভুলেশনের সময়ও ব্যক্তি ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।

ওভুলেশনের সময় কেন ব্যথা হয়?

ডিম্বস্ফোটনের সময় তলপেটে যে ব্যথা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাকে Mittelschmerz বলা হয়। জার্মান ভাষায় শব্দটির অর্থ ‘মাঝের ব্যথা’। সাধারণত মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে এই ব্যথা দেখা দেয়।

এই ব্যথার সঠিক কারণ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম্বাণু বের হওয়ার আগে ডিম্বাশয়ের ভেতরের ফলিকল বড় হয়ে ডিম্বাশয়ের উপরিভাগে টান তৈরি করতে পারে। আবার ফলিকল ফেটে ডিম্বাণু বের হওয়ার সময় তরল বা সামান্য রক্ত বের হয়ে পেটের ভেতরের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করলেও ব্যথা হতে পারে।

ব্যথা কোথায় ও কেমন হয়?

ওভুলেশন পেইন সাধারণত তলপেট বা শ্রোণীদেশের একপাশে অনুভূত হয়। যে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু নির্গত হচ্ছে, অনেক সময় সেই পাশেই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তবে প্রতি মাসে ডান-বাম পাশ নিয়ম করে পরিবর্তন হবে—এমন নয়।একই পাশেও কয়েক মাস ধরে ব্যথা হতে পারে।

ব্যথা কারও ক্ষেত্রে মৃদু ও নিস্তেজ হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে হঠাৎ তীক্ষ্ণ ব্যথা বা টান ধরার মতো অনুভূত হতে পারে।

কতক্ষণ থাকে এই ব্যথা?

ওভুলেশন পেইন সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যথা এক থেকে দুই দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

কতজন নারী এই ব্যথা অনুভব করেন?

সব নারী ওভুলেশনের সময় ব্যথা অনুভব করেন না। Cleveland Clinic এর তথ্য অনুযায়ী, ডিম্বস্ফোটনকারী মানুষের সর্বোচ্চ প্রায় ৪০ শতাংশের ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যথা হতে পারে। কারও নিয়মিত এই ব্যথা হতে পারে, আবার কেউ কখনোই তা অনুভব নাও করতে পারেন।

ওভুলেশনের সময় আরও কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

তলপেটের ব্যথার পাশাপাশি কিছু নারীর ক্ষেত্রে ওভুলেশনের সময় সামান্য যোনিপথে রক্তপাত বা স্রাবের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এসব উপসর্গ সবার ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

পিরিয়ডের ব্যথা থেকে পার্থক্য কোথায়?

ওভুলেশন পেইন সাধারণত মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে হয় এবং প্রায়ই তলপেটের একপাশে অনুভূত হয়। অন্যদিকে, মাসিকের ব্যথা সাধারণত মাসিক শুরুর আগে বা শুরু হওয়ার সময় তলপেটে cramp বা চাপধরনের ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়। মাসিকের ব্যথা জরায়ুর সংকোচনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

সব তলপেটের ব্যথাই কি ওভুলেশন পেইন?

না। মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে ব্যথা হলেই সেটিকে ওভুলেশন পেইন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। Ovarian cyst, endometriosis, pelvic inflammatory disease (PID), appendicitis কিংবা ectopic pregnancy এর মতো বিভিন্ন সমস্যার কারণেও একই ধরনের তলপেট বা পেলভিক ব্যথা হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

ব্যথা যদি হঠাৎ খুব তীব্র হয়, বারবার ফিরে আসে, ব্যথানাশক নেওয়ার পরও না কমে, অথবা দীর্ঘসময় ধরে থাকে,তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্যথার সঙ্গে জ্বর, বমি বা অস্বাভাবিক রক্তপাত থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে তীব্র তলপেটের ব্যথার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

কীভাবে ব্যথা কমানো যায়?

হালকা ওভুলেশন পেইনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। গরম পানিতে গোসল, heating pad ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু over the counter painkiller ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে নিয়মিত বা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

Cleveland Clinic এর Ob/Gyn Time podcast এ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ Christine Hur, MD জানান, কিছু নারী ওভুলেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত  Mittelschmerz ব্যথা বেশ স্পষ্টভাবে অনুভব করেন। তাঁর মতে, ওভুলেশনের সময়কার উপসর্গ সম্পর্কে নিজের মাসিক চক্রের ধরন জানা অনেকের জন্য সহায়ক হতে পারে।

চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী, মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে হালকা ও স্বল্পস্থায়ী তলপেটের ব্যথা অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক ওভুলেশন পেইন হতে পারে। তবে ব্যথা তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী বা অন্য উপসর্গের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা (NHS), মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক ও স্ট্যাটপার্লস (NCBI)।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

লাইফ স্টাইল Vision: বাংলা ভাষায় স্বাস্থ্যকর জীবন, মানসিক সুস্থতা, পরিবার, কর্মজীবন, ব্যক্তিগত উন্নয়ন এবং জীবনমান সম্পর্কিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, গবেষণানির্ভর ও প্রভাবশালী Human Development Platform হওয়া; যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজের জীবনমান উন্নয়নের একটি প্রধান জ্ঞানভান্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। Mission: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ভ্রমণ, পরিবার, ক্যারিয়ার, ফ্যাশন, খাদ্য, মানসিক সুস্থতা এবং জীবনদক্ষতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য, বিশেষজ্ঞ মতামত, গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে এমন কনটেন্ট তৈরি করা, যা মানুষকে আরও সচেতন, সুস্থ, দক্ষ এবং দায়িত্বশীল জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে।