আইফোন নয়, অপ্রতীম হত্যার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে: তদন্তকারীরা

Sep 20, 2026 - 12:20
Sep 20, 2026 - 12:21
 0  2
 আইফোন নয়, অপ্রতীম হত্যার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে: তদন্তকারীরা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়াই কারণ নয় বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

তার দাবি, অপ্রতীম ও আটক তুহিন একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং তাদের মধ্যে আগে থেকেই কিছুটা বিরোধ ছিল। ওই বিরোধসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে অপ্রতীমকে তুহিন ডেকে নেওয়ার পরই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ ঘটনায় মাদক সিন্ডিকেট ও কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আইফোন ছিনতাই এবং অপ্রতীমের মায়ের ওপর ক্ষুব্ধ কোনো চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘নিখোঁজের ঘটনার পর আমরা ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অপ্রতীম বাসা থেকে বের হওয়ার পর তুহিনের সঙ্গে দেখা করে। অপ্রতীমের মুঠোফোনেও তুহিনের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডে তুহিনের সংশ্লিষ্টতা এখনো তদন্তাধীন।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তে আমরা যেটা জানতে পেরেছি, শুধুমাত্র আইফোনের জন্যই অপ্রতীমকে হত্যা করা হয়নি। তারা একসঙ্গে চলাফেরা করত। তাদের মধ্যে পূর্বের কিছুটা বিরোধ ছিল। ওইসব বিষয় নিয়ে সেদিন অপ্রতীমকে তুহিন ডাকে। এরপরই হত্যার ঘটনা ঘটে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার বিস্তারিত নিয়ে আজ সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য জানানো হবে।

এদিকে ছবি তোলার প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রতীমকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, পিবিআই ও এসআরবি মাঠে কাজ করছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম তার স্বামী ও একমাত্র সন্তান অপ্রতীমকে নিয়ে কোটবাড়ী-গন্ধমতী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে এক মাসের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বও পালন করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাদক সেবনের সময় সালমানপুর এলাকার আট কিশোরকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর নাহিদা বেগম তাদের পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। ওই সময় সালমানপুরের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মিলন ও আল আমিনের নাম আলোচনায় আসে।

ওই ঘটনার জেরে এলাকার কিশোর গ্যাং ও মাদকচক্রের কেউ কেউ নাহিদা বেগমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রতীমের হাতে থাকা মূল্যবান আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং হত্যার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সেখানে আনাছ নামের আরেক কিশোরসহ কয়েকজন অবস্থান করছিল বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রের দাবি, সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের একটি চক্র আগে থেকেই অবস্থান করছিল। পরে অপ্রতীমকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার আইফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে নেওয়ার পর মরদেহ পাহাড়ের একটি ডালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জড়িতরা এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্যের সবগুলো এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়নি।

অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল সে। পরে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুহিন নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। কোটবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মহিবুল আলম ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।শুধু আইফোনের জন্য নয়, অপ্রতীম হত্যার পেছনে আরও কারণ থাকতে পারে বলেন তদন্তকারীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

ন্যাশনাল ভিশন: বাংলাদেশের জাতীয় জনজীবন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যক্রম এবং নাগরিক বাস্তবতার সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য, জবাবদিহিমূলক ও জনস্বার্থভিত্তিক সংবাদ ও জ্ঞানকেন্দ্র হওয়া; যা নাগরিক, নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং গণমাধ্যমের জন্য জাতীয় ঘটনাপ্রবাহের প্রধান রেফারেন্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। মিশন: রাজধানী, মন্ত্রণালয়, সংসদ, আদালত, নির্বাচন, জনসেবা এবং নাগরিক জীবনের প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি দ্রুত, নির্ভুল, প্রেক্ষাপটসমৃদ্ধ এবং ভারসাম্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা; যাতে নাগরিকেরা রাষ্ট্রের কার্যক্রম, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সেগুলোর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।