‘হিসাব হতো না’—জিয়াউলের দেওয়া অস্ত্র-গুলি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে যা বললেন সাব্বির
গুম ও হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমান ওসমানীকে জেরা শেষ করেছে আসামিপক্ষ।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাব্বির রহমানকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর মামলার ১৩তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।
জেরায় সাব্বির রহমান বলেন, বরিশালের র্যাব-৮ কার্যালয়ে জিয়াউল আহসান কিছু অতিরিক্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রেখে দিয়েছিলেন, যার কোনও হিসাব রাখা হতো না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, র্যাবের নিয়মিত অভিযানে ব্যবহৃত গুলি রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হতো।
এই অতিরিক্ত অস্ত্র-গুলি কোথা থেকে এসেছিল—আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাব্বির রহমান বলেন, সেগুলো ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জব্দ করা আলামত থেকে আনা হয়েছিল। তবে ওই মামলায় কী কী অস্ত্র জব্দ হয়েছিল, তা তাঁর জানা নেই বলে জানান তিনি।
আলকাছকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশের দাবি
সাব্বির রহমানের ১৭ সেপ্টেম্বরের জবানবন্দিতে উঠে আসে আলকাছ মাঝি নামে এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের জুনে জিয়াউল আহসান ফোন করে আলকাছ সম্পর্কে তাঁর কাছে জানতে চান।
আলকাছ ‘গলফ অপারেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত মাঝিদের একজন ছিলেন বলে সাক্ষ্যে উল্লেখ করেন সাব্বির। তিনি বলেন, আলকাছ সম্পর্কে তাঁর কিছু জানা নেই জানালে জিয়াউল আহসান তাঁকে জানান, আলকাছ ওই অভিযানের বিভিন্ন তথ্য চরদুয়ানী বাজারে প্রকাশ করছেন এবং এতে র্যাবের নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এরপর জিয়াউল আহসান আলকাছকে ‘এলিমিনেট’ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে আদালতে দাবি করেন সাব্বির রহমান।
সাক্ষীর আরও দাবি, নির্দেশটি পাওয়ার পর তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দায়িত্বটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাঁর অধিনায়ককে বিষয়টি জানান বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর কী হয়েছিল আলকাছের?
সাব্বির রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর তাঁর অধিনায়ক তাঁকে ডেকে আলকাছের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জিয়াউল আহসান ফোন করে আলকাছকে ডেকে নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
জেরায় সাব্বির রহমান আরও বলেন, আলকাছ নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে র্যাব আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলকাছের মোবাইল ফোনের কললিস্ট ধরে অনুসন্ধানের চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে তা আর এগোয়নি।
‘গলফ অপারেশন’ বলতে কী বোঝানো হতো, সে সম্পর্কেও আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন সাব্বির রহমান। তাঁর বর্ণনায় এটি ছিল এমন একটি কথিত অভিযান, যেখানে ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ পানিতে ফেলে দেওয়া হতো। এসব অভিযোগের সত্যতা অবশ্য আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মামলাটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। সাব্বির রহমানের বক্তব্য সাক্ষ্য হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে; এর প্রমাণমূল্য এবং জিয়াউল আহসানের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।
What's Your Reaction?