হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা
বিনা ডেস্ক
দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার জনজীবন ।
হাড় কাঁপানো শীতে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার স্বাভাবিক জনজীবন। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল, অসহায় ও দিন আনা দিন খাওয়া মানুষজন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। এর আগের দিন বুধবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গতকাল ও আজ রোদের দেখা মিলেছে তাতে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।
ভোর থেকেই ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল বাতাসে রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হতে অনীহা দেখাচ্ছেন। তবে জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। জেলার বিভিন্ন মোড় ও চায়ের দোকানের সামনে খড়কুটো, কাঠ ও পুরোনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষদের।
শীতের তীব্র প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জনস্বাস্থেও। সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডাজনিত জ্বর ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মিলন বলেন, এই শীতে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। মাথায় শীতের টুপি-মাপলার, হাতে-পায়ে মোজা, শরীরে গরম কাপড় পরতে হবে। কুসুম গরম পানি করে গোসল করতে হবে। তাদের বাড়ির বাইরে বের হতে দেয়া যাবে না।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিন রাত ও ভোরে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।
What's Your Reaction?