সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করতে প্রধান বিচারপতিকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ বিষয়ে এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় সাধারণ আইনজীবীদের নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর করতে প্রধান বিচারপতিকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ আইনজীবীদের নিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্ট বিভাগের কিছু বিচারপতি আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। এসব বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের বস্তি উচ্ছেদের জন্যও প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান বার সভাপতি। এসব বিষয়ে এক মাসের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সাধারণ আইনজীবীদের নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য ‘ইররেলেভেন্ট’: খোকন
প্রধান বিচারপতির এজলাস ছেড়ে যাওয়ার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সেদিনের ঘটনায় অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনমন্ত্রী দুজনেই ব্যারিস্টার খোকনের ভূমিকা ঠিক হয়নি বলে বক্তব্য দিয়েছেন। জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল! হু ইজ হি হিয়ার? আমি সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কথা বলছি। আপনারা জানেন, এই সুপ্রিম কোর্টে আমাকে আইনজীবীরা ১১ বার নির্বাচিত করেছেন। বার কাউন্সিলে সারা বাংলাদেশের আইনজীবীরা আমাকে তিনবার নির্বাচিত করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবীদের কথা বলব, বিচারপতিদের কথা বলব মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ আছে এর মধ্যে?’
অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে ‘ইররেলেভেন্ট’ আখ্যা দিয়ে বার সভাপতি বলেন, ‘হি ইজ ইররেলেভেন্ট! তার বক্তব্যই ইররেলেভেন্ট! হি ইজ নোবডি ইন আওয়ার ডিসকাশন, ইন আওয়ার ডিমান্ড, অন আওয়ার ডিমান্ড! তার বক্তব্যটা অনভিপ্রেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম! উনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কে? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন? আই অ্যাম সারপ্রাইজড, শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড!’